নীলফামারীর ডিমলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ ও নেসকোর গ্রাহকেরা। দিন-রাতের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় তীব্র গরমে দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর আবার চলে যাচ্ছে। কখনো কখনো স্বল্প সময়ের ব্যবধানেও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরমে ঠিকমতো ঘুমানো যাচ্ছে না। বিদ্যুৎনির্ভর ছোট ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও ক্ষতির মুখে পড়ছে।
তবে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য স্থানীয় বিতরণ ব্যবস্থাকে দায়ী করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।
ডিমলা জোনাল অফিসের কর্মকর্তা ও নেসকোর ডিজিএম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাসুদ আলম মুঠোফোনে জানান, বর্তমানে লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি। পল্লী বিদ্যুৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না; উৎপাদন কেন্দ্র থেকে জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
তিনি বলেন, উৎপাদন পর্যায় থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে বিতরণ পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাসের চাপ কম থাকা ও কয়লা সরবরাহে সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়ছে। এরই অংশ হিসেবে ডিমলাতেও ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে।
এদিকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা ও ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
গ্রাহকদের প্রশ্ন, এই পরিস্থিতি আর কতদিন চলবে এবং কবে স্বাভাবিক হবে ডিমলার বিদ্যুৎ সরবরাহ?
দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতি কাটিয়ে ডিমলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গ্রাহকেরা।
এই বাংলা/এমএস