সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ন

গোলপাতার গুড়ে উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে সহজলভ্য গোলপাতা থেকে গুড় উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। খেজুর ও তালের গুড়ের বিকল্প হিসেবে গোলপাতার রস থেকে তৈরি গুড় স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা গোলপাতা বা নিপা পাম এতদিন মূলত ঘরের ছাউনি ও বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে গোলগাছের ডাণ্ডি থেকে রস সংগ্রহ করে তা জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরির পদ্ধতি এখন নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের খোনকারবেড় গ্রামে বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি প্রকল্পে গোলপাতার রস থেকে গুড় তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে পৌষ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত গোলগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত করে গুড় তৈরি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গোলপাতা উপকূলীয় অঞ্চলে স্বাভাবিকভাবেই জন্মায়। এর জন্য অতিরিক্ত রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। ফলে স্বল্প খরচে গোলপাতার রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। পতিত জমি, খালের পাড় কিংবা নিচু জলাভূমিতেও পরিকল্পিতভাবে গোলগাছের বিস্তার ঘটানো সম্ভব।

স্থানীয় সংগ্রাহকরা জানান, বিশেষ কৌশলে গোলগাছের ডাণ্ডি ছেঁটে সেখান থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। পরে সেই রস আগুনে জ্বাল দিয়ে ঘন করে গুড়ে পরিণত করা হয়। গোলপাতার গুড়ের স্বাদ প্রচলিত গুড়ের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন এবং এতে হালকা লবণাক্ততার উপস্থিতি রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গোলফলের শাঁস অনেকের কাছে পরিচিত হলেও গোলপাতার রস থেকে গুড় তৈরির বিষয়টি এখনো ব্যাপকভাবে পরিচিত নয়। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, প্রচারণা ও বাজারজাতকরণের সুযোগ না থাকায় সম্ভাবনাময় এ খাতটি এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গোলপাতার গুড় পিঠা, পুলি, পায়েসসহ বিভিন্ন খাদ্য তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এ পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ সম্ভব।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, গোলপাতার গুড়কে বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় করতে প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি, সহজ শর্তে ঋণ ও কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা। উপকূলের প্রান্তিক কৃষক ও বেকার জনগোষ্ঠীকে এ কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে তাদের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

গোলগাছের বংশবিস্তারও তুলনামূলক সহজ। গোলফল বা গাবনা থেকে নতুন চারা উৎপাদন করা যায় এবং উপকূলীয় পরিবেশে এটি স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে ওঠে। ফলে পরিকল্পিতভাবে গোলবাগান গড়ে তোলা গেলে একই সঙ্গে পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নিয়ে গোলপাতার গুড় উৎপাদনকে কুটির শিল্প থেকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে উন্নীত করা গেলে উপকূলীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের গুড় শিল্পে একটি নতুন সম্ভাবনাময় পণ্য যুক্ত হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর