রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন

কুড়িগ্রামে পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পেরে বিপাকে কৃষক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

বর্ষা মৌসুমেও পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কুড়িগ্রামে পাট জাগ দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। খাল-বিল ও জলাশয়ে পানি না থাকায় অনেক কৃষককে কয়েক কিলোমিটার দূরে পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ। সময়মতো জাগ দিতে না পারায় পাটের আঁশের মান নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

কুড়িগ্রাম ছোট-বড় ১৬টি নদ-নদীবেষ্টিত জেলা হলেও জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাবে চলতি মৌসুমে বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি জমেনি। ফলে পাট কাটার পর প্রচলিত পদ্ধতিতে জাগ দিতে সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ১২৫ হেক্টর জমির পাট কাটা হয়েছে। কয়েক বছর আগেও জেলায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পানির সংকটে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। আধুনিক রিবন রেটিং পদ্ধতির মাধ্যমে পানির ব্যবহার কমিয়ে পাটের আঁশ ছাড়ানো সম্ভব হলেও অনেক কৃষক এখনো এ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানেন না। ফলে তারা সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দিতে গিয়ে বাড়তি খরচ ও ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জাগ দেওয়ার উপযুক্ত পানি না পেয়ে কেউ জমির পাশে, কেউ সড়কের ধারে আবার কেউ জলাশয়ের পাড়ে পাটের আঁটি স্তূপ করে রেখেছেন। দীর্ঘ সময় এভাবে পড়ে থাকায় পাটের আঁশের স্বাভাবিক রং ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার টগরাইহাট এলাকার কৃষক মো. আব্দুল মমিন ও মো. বাবু মিয়া বলেন, আগে বাড়ির পাশের খালে সহজেই পাট জাগ দেওয়া যেত। এবার অনেক খালেই পানি নেই। ফলে দূরের জলাশয়ে পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে।

রাজারহাট উপজেলার ছিনাই এলাকার কৃষক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, পাট কাটার পর দ্রুত জাগ দিতে না পারায় পাটগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে ভালো মানের আঁশ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা গেলে কৃষকরা বেশি উপকৃত হতেন। সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়ায় অনেক কৃষক কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, পাট কাটার পর যত দ্রুত সম্ভব পর্যাপ্ত ও পরিষ্কার পানিতে জাগ দিতে হবে। পানির সংকট থাকলে আশপাশের কৃষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে গভীর ও পরিষ্কার জলাশয় ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন এসেছে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক এলাকায় বর্ষা মৌসুমেও পর্যাপ্ত পানি জমছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিতে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর