সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রাম পাউবো’র জরুরি প্রকল্পের নামে লুটপাটের পুরোনো সিন্ডিকেট

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের রৌমারী, রাজীবপুর ও উলিপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বাম তীরে নদীভাঙন প্রতিরোধে চলমান জরুরি প্রকল্পে অনিয়ম, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন এবং সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও নদী আন্দোলনের কর্মীদের অভিযোগ, রৌমারীর সুখেরবাতি, সোনাপুর ও খেদাইমারী এলাকায় জরুরি প্যাকেজের আওতায় নদী প্রতিরক্ষা কাজ চলছে। দুটি প্যাকেজে প্রায় ৫৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬ হাজারের বেশি জিওব্যাগ ফেলার কথা থাকলেও বাস্তবে কাজের মান ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নথিতে ঠিকাদার হিসেবে মো. আব্দুর রশিদ ও মো. রবিউল ইসলামের নাম থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে কাজ পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছে এবং এতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়।

জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা মাহবুব আলম অভিযোগ করেন, নির্ধারিত মান অনুযায়ী জিওব্যাগ ভর্তি করা হয়নি, নৌকা ব্যবহার করে ডাম্পিং করার নিয়মও মানা হয়নি। এমনকি নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় কম জিওব্যাগ ফেলেও পুরো বিল উত্তোলনের অভিযোগ করেন তিনি।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

অন্যদিকে, ঠিকাদার মো. আব্দুর রশিদ ও মো. রবিউল ইসলাম বলেন, তারা নিয়ম মেনেই টেন্ডার পেয়েছেন এবং তাদের প্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক সাইটে থেকে কাজ তদারকি করছেন। সিন্ডিকেটের অভিযোগও তারা অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “সমস্ত কাজ সরকারি বিধি ও নিয়ম অনুসারে হচ্ছে। নির্ধারিত ঠিকাদাররাই কাজ করছেন। কাজের মান নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রতিনিধি, রাজনৈতিক প্রতিনিধি এবং পাউবোর কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।”

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রংপুর পাউবো সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং নদীভাঙন প্রতিরোধের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হোক।

এই সম্পর্কিত আরো খবর