বিশেষ প্রতিনিধি :
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় অঞ্চলের নদী, ঝরণা ও বিভিন্ন জলাধার থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও একটি প্রভাবশালী চক্র নানা কৌশলে বালু উত্তোলন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি নদী ও ঝরণা থেকে বালু সংগ্রহের ফলে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং তীরবর্তী এলাকায় ভূমি ক্ষয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া ভারী যানবাহন চলাচল ও যান্ত্রিক উপায়ে বালু পরিবহনের ফলে পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
পরিবেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে গারো পাহাড় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে। পাহাড়ি এলাকায় মাটির স্থিতিশীলতা কমে গিয়ে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক অভিযানের পর সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কিছুদিন পর আবারও বালু উত্তোলন শুরু হয় বলে তারা দাবি করেন।
এলাকাবাসীর মতে, পরিবেশ রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি জোরদার ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বন বিভাগের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

