কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দক্ষিণ চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের ছামাদের ঘাট এলাকায় দুধকুমার নদীর তীররক্ষা বাঁধের একটি অংশ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ডেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার (২১ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমের আগে এমন ঘটনা তাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় দুধকুমার নদীর ডান তীরে ০.০০০ থেকে ০.৫০০ কিলোমিটার উজান পর্যন্ত এন্ড টারমিনেশনসহ নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটির দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস এ-এস আই অ্যান্ড উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল জেভি।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ জুলাই কাজ শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় বাঁধের একটি অংশ ডেবে যাওয়ায় তারা প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে আসন্ন বর্ষায় ইসলামপুরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কাজটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১১ কোটি ৯৪ লাখ ২৪ হাজার ৯২৭ টাকা ৫৩ পয়সা এবং চুক্তিমূল্য ১১ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার ৬৭৮ টাকা ২৬ পয়সা।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোছা. রাবিয়া আক্তার বলেন, “প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।” তবে মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ, প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি কিংবা বাঁধের অংশ ডেবে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার, প্রকল্পের গুণগত মান যাচাই এবং তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।