মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

নবী-ওলিদের আদর্শ অনুসরণে মানবকল্যাণে কাজ করার আহ্বান সাইফুদ্দীন মাইজভাণ্ডারীর

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার সেবা করার আহ্বান জানিয়েছেন দরবারে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর সাজ্জাদানশীন হযরতুলহাজ্ব মাওলানা শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.)। তিনি বলেন, নবী-ওলিদের জীবনদর্শনের অন্যতম শিক্ষা হলো মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও পরোপকার। আধ্যাত্মিক সাধনার সার্থকতা মানুষের কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়েই প্রকাশ পায়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের বসির ভাণ্ডার দরবার শরীফে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও ফাতেহায়ে ইয়াযদাহুম উপলক্ষে আয়োজিত আজিমুশশান মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নবী-ওলিদের পরোপকারের দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সৃষ্টির সেবা এবং দুঃখী-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই আধ্যাত্মিক শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে। ক্ষুধার্তকে আহার দেওয়া, বিপদগ্রস্তকে সহযোগিতা করা, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। তাই আধ্যাত্মিকতার চর্চাকে মানুষের কল্যাণে নিবেদিত জীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন মানবতার জন্য অনুসরণীয় আদর্শ। তাঁর শিক্ষা মানুষকে সংকীর্ণতা, হিংসা, বিদ্বেষ ও আত্মকেন্দ্রিকতা পরিহার করে বৃহত্তর মানবকল্যাণে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। ওলি-আউলিয়াদের জীবনেও মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সেবা ও ত্যাগের শিক্ষা বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর মতে, নবী-ওলিদের আদর্শ অনুসরণের অর্থ হলো মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করা, সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজে ন্যায়, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখা।

প্রধান অতিথি বলেন, সমাজে স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ধর্মীয় মূল্যবোধকে বাস্তব জীবনের আচরণে প্রতিফলিত করা জরুরি। মত ও পথের ভিন্নতা যেন মানবিক দায়িত্ব পালনে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। পরোপকারকে ব্যক্তিগত জীবনের অভ্যাস ও সামাজিক অঙ্গীকারে পরিণত করতে পারলে বৈষম্য ও বিদ্বেষ কমিয়ে মানবিক মর্যাদা, সৌহার্দ্য এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

মাহফিলের উদ্বোধন করেন হাটহাজারীর ফরহাদাবাদ দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ও জেলা দায়রা জজ সৈয়দ ফখরুল আবেদিন রায়হান ফরহাদাবাদী। এতে সভাপতিত্ব করেন বসির ভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ শামছুল আলম আল সানজারী মাইজভাণ্ডারী।

প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ আহমদুল হক মাইজভাণ্ডারী।

হাফেজ ক্বারী মাওলানা মোহাম্মদ কেরামত আলীর সঞ্চালনায় মাহফিলে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন হালিশহর ফুল চৌধুরীপাড়া আকবর আলী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বেলাল হোসাইন তাহেরী, মইনীয়া ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি শায়ের মাওলানা মোহাম্মদ মনছুর আলী মাইজভাণ্ডারী, মইনীয়া যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাফেজ ক্বারী মাওলানা মুহাম্মদ কেরামত আলী এবং হাফেজ মাওলানা খাজা বাহাউদ্দীন মাইজভাণ্ডারী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এস এম সাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম জেলা সেক্রেটারি জসিন উদ্দীন ভূঁইয়া, আলহাজ্ব কাজী শহিদুল্লাহ ও ওয়াহিদ কবির চৌধুরীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

মাহফিল চলাকালে ধর্মীয় আবেগঘন পরিবেশে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল ‘নারায়ে তাকবির—আল্লাহু আকবর’, ‘নারায়ে রিসালাত—ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)’, ‘নারায়ে হায়দারী—ইয়া মাওলা আলী’, ‘নারায়ে গাউছিয়া—ইয়া গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী’ এবং ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত জিন্দাবাদ’।

আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া ও মইনীয়া যুব ফোরামের ব্যবস্থাপনায় এবং আল মইন শামস্ মনজিল ও বসির ভাণ্ডার দরবার শরীফের উদ্যোগে আয়োজিত এ মাহফিলে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ভক্ত-আশেকান ও স্থানীয় মুসল্লিরা অংশ নেন।

মাহফিলের শেষপর্বে বিশ্বশান্তি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রধান অতিথি হযরতুলহাজ্ব মাওলানা শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.)।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর