রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

নাগেশ্বরীতে মাদ্রাসায় ১৬ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় একটি দাখিল মাদ্রাসায় অফিস সহায়ক পদে ১৬ লাখ টাকার বিনিময়ে গোপনে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুপারিনটেনডেন্ট ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। এ নিয়োগে স্বাক্ষর জাল ও ভুয়া রেজুলেশন তৈরির অভিযোগও করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবক সদস্যদের একাংশ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নায়কেরহাট দারুস সুন্নাত দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসায়। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসছেন না।

মাদ্রাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, সুপারিনটেনডেন্ট মো. খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে গোপনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়া নুরুন্নবীর বাবা আব্দুল জলিলের কাছ থেকে এ জন্য ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষক-কর্মচারী ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর নিয়োগের বিষয়টি জানাজানি হলে মাদ্রাসায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই দিন সুপারিনটেনডেন্টকে মাদ্রাসার কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে সেখান থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসছেন না। এমনকি তাঁর বাড়িতেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

এ ঘটনায় গত ৮ অক্টোবর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবক সদস্যদের একাংশ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নিয়োগসংক্রান্ত রেজুলেশনে তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি ও তিনজন অভিভাবক সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ ছাড়া সুপারিনটেনডেন্ট যোগদানের পর থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে আরও প্রায় ৫০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল মজিদ বলেন, “কোনো নিয়মনীতি না মেনে এবং আমাদের স্বাক্ষর জাল করে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

অন্যদিকে, মাদ্রাসার সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুপারিনটেনডেন্ট মো. খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীরা নিয়োগপ্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর