‘আপনার চোখকে ভালোবাসুন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (সিইআইটিসি) বিশ্ব দৃষ্টি দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং চোখের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর অক্টোবর মাসে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টায় সিইআইটিসি প্রাঙ্গণে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালির উদ্বোধন করেন সিইআইটিসির ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ. এম. অহিদুল আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিইআইটিসির মেডিকেল ডিরেক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজীব হোসেন, আইসিওর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান ওসমানী, চিফ কনসালটেন্ট ডা. নাসিমুল গণি চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. জেসমিন আহমেদ, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সুজিত কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক ও কনসালটেন্ট ডা. মেরাজুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ও কনসালটেন্ট ডা. সোমা রানী রায় এবং কনসালটেন্ট ডা. তাহমিনা আক্তারসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, অপটোমেট্রি, প্যারামেডিক ও শিক্ষার্থীরা।
র্যালিটি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান, বিশেষ করে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগ প্রদক্ষিণ করে মূল চত্বরে এসে শেষ হয়।
এ সময় সিইআইটিসির ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ. এম. অহিদুল আলম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ চোখ আমাদের সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের একটি দিনের স্লোগানের মধ্যে সচেতনতা সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত চোখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। চোখের ছোটখাটো সমস্যাকেও অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের চোখের যত্নের বিষয়েও সচেতন করতে হবে। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং দৃষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে অনেক জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
চোখকে সংবেদনশীল অঙ্গগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সিইআইটিসির মেডিকেল ডিরেক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজীব হোসেন বলেন, দৃষ্টিশক্তি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চোখের বিভিন্ন সমস্যা শুরুতেই শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রেই দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, চোখের সামান্য সমস্যাও শুধু দৃষ্টিশক্তিকে দুর্বল করে না, অনেক সময় অন্ধত্বের কারণ হতে পারে। খাদ্য, শারীরিক পরিচ্ছন্নতা ও ব্যায়ামও দৃষ্টিশক্তি শক্তিশালী এবং চোখ সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং চোখের প্রতি যত্নশীল হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে হাসপাতালে আগত রোগীদের মধ্যে চোখের যত্ন নেওয়া, চক্ষুরোগ প্রতিরোধ এবং চোখের পরিচর্যা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানিয়ে গণসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই বাংলা/এমএস