বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

সাত বছরেও শেষ হয়নি কুড়িগ্রামের দাশেরহাট বাইপাস

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

কুড়িগ্রাম শহরের যানজট নিরসন এবং সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন সহজ করতে নেওয়া দাশেরহাট বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের সাত বছর পরও শেষ হয়নি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির কাজ শুরুর পর দুই দফায় ঠিকাদার পরিবর্তন হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে প্রকল্পের কাজ।

কুড়িগ্রাম জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ৬৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী-ভুরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। এর আওতায় কুড়িগ্রাম সদরের বীরপ্রতীক তারামন বিবির মোড় থেকে দাশেরহাট পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় বাইপাস সড়কের জন্য প্রায় ৪১ একর জমি অধিগ্রহণে ১০১ কোটি টাকা এবং সড়ক নির্মাণে ৮৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। তবে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না করেই ২০২১ সালে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শুরু করা হয়।

প্রথম দফায় এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার প্রাইভেট লিমিটেড ও মো. আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেডের জেভিকে কাজ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের কাজের মেয়াদ ছিল। তবে দুটি কালভার্ট নির্মাণ ছাড়া উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।

পরবর্তীতে সড়কের গতিপথ পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২৫ সালে আগের দরপত্র বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে সড়ক বিভাগ। দ্বিতীয় দফায় কাজের দায়িত্ব পায় মো. আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড। এ দফায় কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণ এবং তারামন বিবির মোড়ে প্রায় ১০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন করা হয়েছে। তবে মূল বাইপাস সড়কের বড় অংশ এখনো নির্মাণাধীন বা অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, অধিগ্রহণের নোটিশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও অনেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি। চেরেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা বিপুল চন্দ্র রায় জানান, নামের ভুল সংশোধন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও তিনি অধিগ্রহণের অর্থ পাননি।

একই গ্রামের মো. জহুরুল হক অভিযোগ করেন, এলাকায় জমির বাজারমূল্য প্রতি শতকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা হলেও সরকারি মূল্য তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এ কারণে নোটিশ পাওয়ার পরও তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি।

কুড়িগ্রাম ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর শেখ মো. মাহবুবে সোবহানী বলেন, নামজারি, মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলা থাকায় ভূমি অধিগ্রহণে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে অধিগ্রহণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদনকারীদের পর্যায়ক্রমে অর্থ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকায় পুরোনো সড়কটির অবস্থাও খারাপ হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। চেরেঙ্গা গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাইপাস সড়ক নির্মাণের কথা শুনলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। পুরোনো সড়ক দিয়ে যান চলাচলে দুর্ভোগ হচ্ছে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, বাইপাস সড়কটি চালু হলে কুড়িগ্রাম শহরের যানজট কমার পাশাপাশি সোনাহাট স্থলবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে বলে এলাকাবাসী আশা করছেন।

কুড়িগ্রাম জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান, মূলত ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ না পাওয়ায় অনেক জমির মালিক জমির দখল ছাড়ছেন না। এ কারণে সড়ক নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হলে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়তে পারে।

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বীরপ্রতীক তারামন বিবি মোড় থেকে দাশেরহাট পর্যন্ত বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। চলতি বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর