শিকারির ফাঁদ থেকে ফিরে ছয় মাস পর সুস্থ বাঘিনী ফিরছে সুন্দরবনে, নিরাপত্তা ও বিচরণ নিয়ে শঙ্কা
এইবাংলা অনলাইন
প্রকাশকালঃ
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
বাগেরহাট প্রতিনিধি :
শিকারিদের পাতা ফাঁদে গুরুতর আহত হওয়ার প্রায় ছয় মাস পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা একটি বাঘিনীকে রোববার (১২ জুলাই) সুন্দরবনে অবমুক্ত করতে যাচ্ছে বন বিভাগ। তবে দীর্ঘদিন পুনর্বাসনকেন্দ্রে থাকার পর তার নিরাপত্তা, শিকার ধরার সক্ষমতা এবং বিচরণ এলাকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে হরিণ শিকারিদের ফাঁদে আটকা পড়ে গুরুতর আহত অবস্থায় বাঘিনীটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে খুলনা বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে দীর্ঘ চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তোলা হয়।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাঘিনীটির সামনের বাঁ পায়ের গভীর ক্ষত সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে এবং সে স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ড তাকে বনাঞ্চলে অবমুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাগেরহাটের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
তবে দীর্ঘদিন খাঁচাবন্দি থাকার কারণে বন্য পরিবেশে তার স্বাভাবিক জীবনযাপন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদরা। তাদের মতে, পূর্ণবয়স্ক বাঘের নির্দিষ্ট বিচরণ এলাকা থাকে। দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে সেই এলাকায় অন্য কোনো বাঘের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকতে পারে। ফলে এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঝুঁকি রয়েছে, যা বাঘিনীটির বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, স্যাটেলাইট কলারের ব্যবস্থা না থাকায় বাঘিনীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বিচরণ এলাকায় প্রায় আট কিলোমিটারজুড়ে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। খুলনা অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, এরই মধ্যে ১০টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং অবমুক্তির আগেই বাকি ক্যামেরাগুলো বসানো হবে।
তবে বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. রেজা খান মনে করেন, শুধু ট্র্যাপ ক্যামেরার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। তার মতে, অবমুক্তির আগে সম্ভাব্য এলাকায় শিকারের প্রাপ্যতা, অন্য বাঘের উপস্থিতি এবং পরিবেশগত উপযোগিতা নিয়ে আরও বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন করা প্রয়োজন ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রে আহত বন্য প্রাণীকে পুনর্বাসনের পর সফলভাবে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে অবমুক্তির পর কয়েক মাস নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বাঘিনীটির অভিযোজন, চলাচল এবং অন্যান্য বন্য প্রাণীর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া মূল্যায়নই হবে এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্যের মানদণ্ড। ভবিষ্যতে আহত বা বিপন্ন বন্য প্রাণীর পুনর্বাসনে এ অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ শাহজাহান খান,
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ১২, পুরানা পল্টন (এল মল্লিক কমপ্লেক্স, ৫ম তলা) ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও আর এস প্রিন্টিং প্রেস ৯২, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।