শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাটুরিয়ায় প্রকল্প পরিদর্শনে জোনায়েদ সাকি: মেয়াদ বাড়লে ব্যয়ও বাড়ে, অপচয় হয় রাষ্ট্রীয় অর্থ

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই এর ব্যয় বৃদ্ধি পায়। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাশ্রয়ী ব্যয়ে এবং প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করতে হবে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের ভাষীয়ালি-কৃষ্টপুর এলাকায় ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ’ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি টাকার হিসাব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় থাকলে সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুফল পাবে।

আঞ্চলিক বৈষম্য প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশের কোনো অঞ্চলকে উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রাখা হবে না। আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গীকার। মানুষের জীবনমানের উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য। জুলাই সনদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। এর ধারাবাহিকতায় মানিকগঞ্জেও দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপদ পানি পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। সারাদেশে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে গভীর নলকূপ স্থাপনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে নদী, নালা ও বৃষ্টির পানি ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ রয়েছে সরকারের।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচন করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয়করণ বরদাশত করা হবে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সব যোগ্য নাগরিককে সরকারি বিভিন্ন সুবিধার আওতায় আনা হবে।

নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রতিটি নাগরিককে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সবার জন্য একটি ইউনিক আইডি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) নম্বরের ভিত্তিতে চালু করা হতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে নাগরিকদের বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে প্রশাসন ও সমাজে যে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও শিথিলতা তৈরি হয়েছে, তা সংস্কারে বর্তমান সরকার কাজ করছে। রাতারাতি পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। জনগণের অর্থ ব্যবহারে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্প পরিদর্শনের সময় ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. হানিফ, উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মানিকগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী ফাতিমা ফেরদৌস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. খায়রুল ইসলাম, সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ খান মজলিশ মাখন, সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন, ফুকুরহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিয়াউর রহমানসহ স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর