মিরসরাই প্রতিনিধি :
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই অংশে শিল্প গ্রুপ বিএসআরএম-এর স্ক্র্যাপ ও পণ্যবাহী লরির বেপরোয়া চলাচল দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। নিয়ন্ত্রণহীন গতি ও অবহেলার কারণে একের পর এক দুর্ঘটনায় ঝরছে তাজা প্রাণ, পঙ্গুত্ব বরণ করছেন অসংখ্য মানুষ।
সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে মিঠাছরা বাইপাস এলাকায় বিএসআরএম-এর একটি লরির ধাক্কায় এক তরুণ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহতের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা জানান, তার মাত্র দেড় মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে, যে বাবার আদর পাওয়ার আগেই অনাথ হয়ে গেল।
এই দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই দিন মিরসরাই পৌরসদর এলাকায় বিএসআরএম-এর আরেকটি লরি উল্টে যায়। এতে মহাসড়কের একপাশে প্রায় ৪০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম অভিমুখে যাতায়াতকারী শতশত যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন তীব্র যানজটে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রীদের অভিযোগ, বিএসআরএম-এর লরিগুলো মহাসড়কে রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করে চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
এর আগে গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএসআরএম-এর একটি ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন দৈনিক জনতার মিরসরাই প্রতিনিধি আবদুল মন্নান রানা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটির সজোরে ধাক্কায় তার দুটি পা মারাত্মকভাবে থেতলে যায়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের গাড়ি হওয়ায় এসব লরির চালকরা কাউকে তোয়াক্কা করে না। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও চালক কিংবা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। সচেতন মহলের মতে, এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই চালকদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
মহাসড়কে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ঘাতক লরিগুলোর বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

