বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের ১৬ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে কুড়িগ্রাম জেলার ১৬টি প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ০.১৩ সেন্টিমিটার এবং তালুকশিমুলবাড়ী পয়েন্টে ০.১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বেড়েছে ০.২৪ সেন্টিমিটার।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া, হাতিয়া ও চিলমারী পয়েন্টে যথাক্রমে ০.৭, ০.১১ ও ০.৪ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে ০.৮ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

বর্তমানে ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি ক্রমাগত বাড়ছে। একই সময়ে ধরলা অববাহিকায় ৩৮.৮ মিলিমিটার, দুধকুমার অববাহিকায় ৫০ মিলিমিটার এবং ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী এলাকায় ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, নিচু এলাকায় ইতোমধ্যে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে গবাদিপশু ও পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়