পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ‘পদ্মা বাঁচাও, ঈশ্বরদী বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে পাকশীর ফটুমার্কেট-সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
‘পাকশী ইউনিয়নের সচেতন ও সর্বস্তরের এলাকাবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দারা পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতুর মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনার কাছাকাছি এলাকা থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলনের তৎপরতা বেড়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
বক্তাদের ভাষ্য, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জাতীয় সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতুর সুরক্ষায় প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হওয়া এবং নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা।
কর্মসূচিতে পাকশী ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, স্থানীয় সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন এলাকাবাসী ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। তাঁরা পদ্মা নদী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এই বাংলা/এমএস