রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

পঞ্চগড়ে ওএমএসের চাল-আটা বিতরণে বিশৃঙ্খলা, ডিলারকে হয়রানির অভিযোগ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬

পঞ্চগড় পৌরসভায় খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমের আওতায় চাল ও আটা বিতরণকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা এবং ডিলারকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাল-আটা দিতে রাজি না হওয়ায় এক ডিলার ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ওই ডিলার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওএমএস কার্যক্রমের আওতায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার ভর্তুকিমূল্যে চাল ও আটা সরবরাহ করে। এর অংশ হিসেবে প্রতিদিন ৫৫৫ কেজি চাল ও ৫৫০ কেজি আটা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব খাদ্যশস্য ১১১ জন নির্ধারিত সুবিধাভোগীর মধ্যে বিতরণের নিয়ম রয়েছে।

পঞ্চগড় পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার মো. একরামুল হক মুন্না জানান, লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তিনি ডিলার নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর দাবি, মজুত থাকা পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ মানুষের মধ্যে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয় এবং কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, গত ১৭ অক্টোবর সকাল ৯টায় ডিলার তদারকি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়। লোকসমাগম বেশি থাকায় বরাদ্দ অনুযায়ী প্রত্যেককে ৪ কেজি চাল ও ৪ কেজি আটা দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাল-আটা দাবি করেন। অতিরিক্ত খাদ্যশস্য দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁরা বিক্রয়কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ২৫ হাজার ২২৪ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার পর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবার আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান।

স্থানীয় কয়েকজন সুবিধাভোগী জানান, তাঁরা নিয়মিত ওএমএসের চাল-আটা পেয়ে আসছেন এবং কখনো খালি হাতে ফেরেননি। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় সরকারের কাছে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, বিক্রির একপর্যায়ে ইসলামপুর গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলামকে ৪ কেজি চাল ও ৪ কেজি আটা দেওয়া হয়। এ সময় তিনি ৫ কেজি করে দাবি করেন। নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত খাদ্যশস্য দেওয়া সম্ভব নয় জানালে তিনি তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম রাসেলকে জানানো হলে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাঁরা নিজেদের পছন্দমতো ভিডিও ধারণ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা জাকারিয়া আহমেদ বলেন, তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্তে অনিয়ম বা অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হলে ডিলার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।

ওএমএস কার্যক্রমে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে নির্ধারিত বরাদ্দের খাদ্যশস্য পৌঁছানো এবং বিতরণে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর