দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার নলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয়টিতে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ সময় দশম শ্রেণিতে মাত্র চারজন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত পাওয়া গেছে।
বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী ৯৯ জন হলেও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির এমন চিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই। দীর্ঘদিন ধরেই এসব শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থীকেও শ্রেণিকক্ষে দেখা যায় না বলে অভিযোগ তাদের।
শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ৯৯ জন। শিক্ষক-কর্মচারীসহ প্রতিষ্ঠানটিতে মোট স্টাফ রয়েছেন ১৩ জন। বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ ১ একর ১১ শতক। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মোছাঃ কহিনুর বেগম।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও বাসিন্দা বলেন, কাগজে-কলমে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা থাকলেও বাস্তবে শ্রেণিকক্ষে তাদের উপস্থিতি খুবই কম। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাভ্যাস ও শিক্ষার মান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলেও জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোছাঃ কহিনুর বেগম বলেন, এলাকায় ইপিজেড থাকায় অনেক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম। পাশাপাশি এটি দরিদ্র এলাকা হওয়ায় শিক্ষার্থী সংকট রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিস্থিতি কর্তৃপক্ষ ভালোভাবেই জানেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহাজাহান আলী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনের পর কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো তারা শোকজের জবাব দেয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে এর কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উপস্থিতি রেজিস্টার, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে অভিভাবক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এই বাংলা/এমএস