ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
ঝালকাঠিতে এক নারীকে ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার অভিযোগে পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং একটি জর্দা কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাসসুল হক মনু মিয়াসহ দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আদি সাবিহা কেমিক্যাল ওয়ার্কস (শাহী ৯৯ জর্দা কোম্পানি)–এর এক নারী শ্রমিক রুবিনা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হক অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বাদীপক্ষের আইনজীবী পার্থ সারথী রায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত ফরিদ হোসেন শাহী জর্দা কোম্পানির একজন শ্রমিক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনু মিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ফরিদ হোসেন বাদীকে কারখানায় নিয়ে যান। সেখানে কোম্পানির মালিক মনু মিয়া শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিলে বাদী তা প্রত্যাখ্যান করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর কারখানায় ডেকে নেওয়ার পর একপর্যায়ে মনু মিয়া জোরপূর্বক বাদীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে চাকরির সুবাদে একাধিকবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে, যার ফলে বাদী গর্ভবতী হয়ে পড়েন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গর্ভের সন্তানকে বৈধতা দিতে অভিযুক্ত মনু মিয়ার পরামর্শে দ্বিতীয় আসামি ফরিদ হোসেন ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি কাবিননামার মাধ্যমে বাদীকে বিয়ে করেন। পরে ১৫ জুলাই একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর ফরিদ হোসেন বাদীকে তালাক দেন। শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে বাদী সাক্ষীদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় গেলে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আদালতের নির্দেশ এখনও হাতে পাওয়া যায়নি। নির্দেশ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

