বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিডরের ১৭ বছর পরও কাঠালিয়ায় হয়নি বেড়িবাঁধ, আতঙ্কে দুই লাখ মানুষ

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫
ঝালকাঠিবাসি আজও বয়ে বেড়াচ্ছে সিডরের সেই ভয়াল স্মৃতি / ছবি : এই বাংলা প্রতিনিধি

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :


আজ ১৫ নভেম্বর—সুপার সাইক্লোন সিডরের সেই ভয়াল দিন। ২০০৭ সালের এই দিনে ঘূর্ণিঝড় সিডর উপকূলজুড়ে তাণ্ডব চালিয়ে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল ঘরবাড়ি, ফসল, গাছপালা ও অসংখ্য প্রাণ। ঝালকাঠির সর্বদক্ষিণের উপজেলা কাঠালিয়ার ক্ষয়ক্ষতি ছিল জেলার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন সিডরের আঘাতে কাঠালিয়া পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। জেলায় নিহত ৫২ জনের বেশিরভাগই ছিলেন এই উপজেলার বাসিন্দা। আমুয়া বন্দরসহ পুরো উপজেলায় একটিও বাড়ি অক্ষত ছিল না। ভেঙে যায় ঘরবাড়ি, নিশ্চিহ্ন হয় গাছপালা ও পশুপাখি।

সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ ছিল বেড়িবাঁধের অনুপস্থিতি। সিডরের পরবর্তী সময়ে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের সুপারিশ করা হলেও দেড় যুগ পার হয়ে গেলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলস্বরূপ এখনো স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতেই ডুবে যায় উপজেলার বড় অংশ, ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষি জমি ও বাড়িঘর।

অন্যদিকে, সাগরে সামান্য নিম্নচাপের খবর এলেই আতঙ্কে কেঁপে ওঠে বিষখালী নদীর তীরবর্তী এলাকার দুই লাখেরও বেশি মানুষ। প্রাণ ও জীবিকার নিরাপত্তাহীনতায় দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এই ভয় বহন করে চলছে তারা।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গভীর নিম্নচাপটি বুধবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত