বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিরোজপুরে চলাচলের পথ বন্ধ: ভোগান্তিতে চার গ্রামের মানুষের   ‎

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫

‎পিরোজপুর প্রতিনিধি :

‎পিরোজপুর-কলাখালী-স্বরূপকাঠি সড়কের মূলগ্রাম খালের ওপর নতুন ব্রীজ নির্মাণ স্থানীয় চার গ্রামের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হওয়ার কথা থাকলেও উল্টো তা এখন পরিণত হয়েছে চরম দুর্ভোগে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

ব্রীজের পাশের পুরোনো সংযোগ সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৫ নং টোনা ইউনিয়নের টোনা, চলিশা, মূলগ্রাম ও তেসদাসকাঠী গ্রামের ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষের জেলা সদরে যাতায়াত সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় বিকল্প সড়ক নির্মাণের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে পিরোজপুর-কলাখালী সড়কের পাশে এ মানববন্ধন করেন তারা। মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিন্ন পথে ঘুরে যেতে হচ্ছে, এতে অনেক সময় চিকিৎসা পেতে দেরি হচ্ছে। বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে না পারায় চাষিদের উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূলসহ নিত্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষদের কাজে যেতে অতিরিক্ত ৪–৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, এতে অতিরিক্ত ভাড়া ও সময়ের অপচয়ে আয় কমে গেছে। ব্রীজ নির্মাণ চলাকালীন সময় ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে মানুষ চলাচল করলেও ব্রীজটি চালু হওয়ার পর সেই পথটিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এতে চার গ্রামের দুইটি আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদেরও চলাচলের একমাত্র পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

‎শুধু সাধারণ মানুষ নয়, টোনা সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কুন্ডপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৪৭নং চর লখাকাঠি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থীর স্কুলে যাতায়াতও বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

‎মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ব্রীজ নির্মাণ স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।

‎টোনা গ্রামের বাসিন্দা মো. মোরসালিন বলেন, ব্রীজ হওয়া আমাদের জন্য ভালো, কিন্তু সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এখন হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে ভয় লাগে। আগে ১০ মিনিটে জেলা সদরে পৌঁছাতাম, এখন প্রায় ৪০ মিনিট লাগে। সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যেতে পারছে না।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

এই সম্পর্কিত আরো খবর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গভীর নিম্নচাপটি বুধবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত