বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রামের ৪ শতাধিক চরে নেই স্বাস্থ্যসেবা: চরম ভোগান্তিতে চরবাসী

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
৪ শতাধিক চরে নেই চিকিৎসা সেবার ন্যূনতম সুবিধা / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রাম জেলার ১৬ নদ–নদী অববাহিকার সাড়ে চার শতাধিক চরের মধ্যে অন্তত সাড়ে তিনশ চরেই নেই কোনো স্বাস্থ্যসেবার ন্যূনতম সুবিধা। এসব চরের মানুষের চিকিৎসা সেবা নিতে নদীপথ ও দীর্ঘ বালুচর পাড়ি দিয়ে উপজেলা বা জেলা সদরে পৌঁছাতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টদায়ক।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

চরবাসীদের অভিযোগ—কেউ অসুস্থ হলে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকুও পান না তারা। অন্যদিকে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বড় বাধা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার কালির আলগা চর জেগে ওঠে ৪ বছর আগে। এখানে ৪ শতাধিক পরিবারের বসবাস হলেও নেই কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। একই পরিস্থিতি ব্রহ্মপুত্রের বালাডোবা, মুসারচর, আটাশির চর, মাঝিয়ালির চর, মসলার চরসহ ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর বেশির ভাগ চরেও।

চরের মানুষের অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ রোগীকে প্রথমে ভাঁড়ে করে বালুচর পাড় হয়ে নদীর ঘাটে নিতে হয়। পরে নৌকায় দেড়–দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে হয়। এরপর আবার বালুচর ও কাঁচা রাস্তায় ৮–১০ কিলোমিটার পথ অটো বা রিকশায় হাসপাতালে পৌঁছাতে লাগে পুরো একটি দিন।

কালির আলগা চরের বাসিন্দা মো. নুর আলম বলেন, “৪ বছর ধরে এখানে ৪ শত পরিবার থাকলেও সরকারি স্বাস্থ্যসেবার কোনো ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালে যেতে পুরো দিন লেগে যায়।”

উলিপুর উপজেলার বালাডোবা চরের মোছা. রহিমা বেগম বলেন, “গর্ভবতী নারী আর জটিল রোগীরা বেশি ভোগে। ডেলিভারিতে সমস্যা হলে নদী ও বালুচর পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নিতে আমাদের অনেক ঝুঁকি নিতে হয়।”

চর উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “সবচেয়ে ঝুঁকিতে গর্ভবতী নারী ও জরুরি রোগীরা। চরবাসীর সেবা নিশ্চিত করতে ‘চর মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে আন্দোলনে নামব।”

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় চরাঞ্চলে চিকিৎসা দেওয়া চ্যালেঞ্জিং। তবুও বিভিন্নভাবে সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।”

উল্লেখ্য, কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার অববাহিকার সাড়ে চার শতাধিক চরে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। জেলার মোট ২৯৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে চরাঞ্চলে রয়েছে মাত্র ৮৪টি।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গভীর নিম্নচাপটি বুধবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত