বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারীদের দাপুটে জয়: সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ক্রিকেট দল / ছবি - বিসিবি

ডেস্ক নিউজ :

ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি তো দূরের কথা—বাংলাদেশ-পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের টি-টোয়েন্টি সিরিজে কোনো দলের স্কোরই ছুঁতে পারছে না শতরান। তারপরও লো-স্কোরিং এই সিরিজেই দেখা মিলছে রোমাঞ্চ আর ধাপ্পাবাজির মতো ম্যাচের। তবে আজ কক্সবাজারে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ জিতেছে একেবারে হেসেখেলে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

৩ ডিসেম্বর সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১৩ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই ধাক্কার পর বদলে গেছে স্বাগতিকরা। ৫ ডিসেম্বর ৩ উইকেটে জিতে সিরিজে সমতা আনার পর আজ আরও আত্মবিশ্বাসী দল দেখা গেল মাঠে। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৩৯ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

কক্সবাজার একাডেমি মাঠে ৮৭ রানের সহজ লক্ষ্যও একসময় কঠিন হয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশের জন্য। মাত্র ২.৩ ওভারে ৮ রানেই পড়ে যায় দুই ওপেনারের উইকেট—অরিত্রি নির্জনা মণ্ডল (৩) ও সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা (৪)।

চাপের মুহূর্তে অধিনায়ক সাদিয়া ইসলাম সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। তৃতীয় উইকেটে অচেনা জান্নাত এমন্তকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ৪৫ রানের মূল্যবান জুটি। ২৮ বলে ৩৫ রানের ইনিংস দিয়ে দলকে জয়ের পথে রাখেন তিনি। তার ব্যাটে ছিল তিনটি করে চার ও ছক্কার শট। ম্যাচসেরা হয়েছেন এই অধিনায়কই।

সাদিয়া আউট হওয়ার পরও অচেনা এবং মাইমুনা নাহার স্বর্ণামণি চতুর্থ উইকেটে ৩৪ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে দলকে ১৩.৩ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। পাকিস্তানের তিন বোলার—মাহনুর জেব, রোজিনা আকরাম ও মেমুনা খালিদ একটি করে উইকেট নেন।

এর আগে টসে জিতে ব্যাটিং করে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল ২০ ওভারে ৮ উইকেটে তোলে মাত্র ৮৬ রান। ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে অধিনায়ক ইমান নাসের করেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৩ রান।

বাংলাদেশের হয়ে হাবিবা ইসলাম ও অতশী মজুমদার দুজনই নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। বোলারদের ধারাবাহিকতার সামনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা পুরো ইনিংসেই ছিল চাপে।

পাঁচ ম্যাচের সিরিজের বাকি দুই টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে একই ভেন্যু কক্সবাজারে—১০ ডিসেম্বর চতুর্থ ম্যাচ, আর ১২ ডিসেম্বর সিরিজের শেষ ম্যাচ।

সিরিজে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ চাইবে পরের ম্যাচেই ট্রফি নিশ্চিত করতে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়