বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সিরিজ সমতায় শেষ করল দ. আফ্রিকা

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
ট্রফি ভাগ করে নিলেন দুই দলের অধিনায়ক। ফাইল ফুটেজ

স্পোর্টস ডেস্ক :

পাকিস্তানের আশা ভাঙতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশেষ কষ্ট করতে হয়নি। মাত্র পাঁচ বলেই ফিরিয়ে দেনবাবর আজমকে, ৯ রানের ব্যবধানে হারায় আরও চার উইকেট এবং এক সেশনের মধ্যেই ৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে সহজেই জয় তুলে নেয় প্রোটিয়ারা।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

 স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা ৪০৪ (মুথুসামি অপরাজিত ৮৯, স্টাবস ৭৬, রাবাদা ৭১, আসিফ ৬–৭৯) এবং ৭৩/২ (মার্করাম ৪২, রিকেলটন অপরাজিত ২৫)। পাকিস্তান ৩৩৩ (মাসুদ ৮৭, শাকিল ৬৬, মহারাজ ৭–১০২) এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৮ (বাবর ৫০, হারমার ৬–৫০)।

এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার অফস্পিনার সাইমন হারমার নেন ৬ উইকেট-যার মাধ্যমে তিনি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ইতিহাসে চতুর্থ দক্ষিণ আফ্রিকান বোলার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।

৮ উইকেটের জয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় দক্ষিণ আফ্রিকা। যা বর্তমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা রক্ষায় তাদের প্রথম জয়। অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য এটি ঘরের মাঠে টস জিতে খেলা অবস্থায় প্রথম পরাজয়, বিশেষ করে স্পিনবান্ধব উইকেটে জেতার ধারার পর এমন হার তাদের জন্য বড় ধাক্কা।

দিনের দ্বিতীয় বলেই বাবর আজম অনসাইডে হালকা টোকায় ২০২২ সালের পর নিজের প্রথম ঘরোয়া টেস্ট ফিফটি পূর্ণ করেন। কিন্তু সেটিই হয়ে ওঠে তার ইনিংসের শেষ বিন্দু-তিন বল পর হারমারের সামান্য নিচু হয়ে আসা অফস্পিনে প্যাডে আঘাত পান বাবর, যা থেকেই শুরু হয় পাকিস্তানের ধস।

হারমারের দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তানের ব্যাটাররা একে একে আত্মসমর্পণ করেন। মোহাম্মদ রিজওয়ান অতিরিক্ত এগিয়ে এসে ব্যাটে-প্যাডে লেগে বল তুলে দেন শর্ট লেগে, আর সেই ক্যাচেই হারমারের উইকেটসংখ্যা পৌঁছে যায় ৯৯৯-এ।

এরপর হাজারতম উইকেটটি আসে নোমান আলিকে আউট করে-অসাধারণ ফ্লাইটে দেওয়া বলটি পড়ে হঠাৎ লাফিয়ে উঠে বাইরের প্রান্ত ছুঁয়ে উইকেটকিপার কাইল ভেরেইনের হাতে জমা হয়। আকাশের দিকে মুখ তুলে গর্জে ওঠেন হারমার-যেন রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান।

পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয় এরপর আরও প্রকট হয়। শাহিন শাহ আফ্রিদি ও সালমান আগা রান নেওয়ার চেষ্টায় বিভ্রান্ত হয়ে রায়ান রিকেলটনের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হন শাহিন—১০৫/৫ থেকে মুহূর্তেই দল নেমে আসে ১০৫/৮-এ। এ সিরিজে তাদের মিডল ও লোয়ার অর্ডারের এমন ভাঙন একাধিকবার দেখা গেছে।

শেষ দিকে আগা কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও কেশভ মহারাজের ইনসুইং আর্ম বল তার ইনিংসের ইতি টানে। এরপর সাজিদ খান রান নিতে গিয়ে স্টাম্পড হন ভেরেইনের হাতে।

৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক। এইডেন মার্করাম চার মেরে শুরু করেন, রিকেলটনও দ্রুত ছন্দে ফেরেন। পাকিস্তানের তিন স্পিনারকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করেও থামানো যায়নি রানরেট। লাঞ্চের আগেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

নোমান আলি শেষ মুহূর্তে দুটি উইকেট নিয়ে সামান্য সান্ত্বনা পান-মার্করাম ও ট্রিস্টান স্টাবসকে ফিরিয়ে দেন তিনি। কিন্তু পরের ওভারেই রিকেলটন লং-অফের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন দক্ষিণ আফ্রিকার জয়।

পূর্বের টেস্ট শেষে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ বলেছিলেন, টস হেরে গেলেও প্রতিযোগিতামূলক থাকতে তারা কেমন খেলার পরিকল্পনা করবে। কিন্তু এই টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা যেন সেই পরিকল্পনাই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করে দেখাল—চার দিনে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখে জয় ছিনিয়ে নিল তারা।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়