কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ, মাদক ও দুর্নীতির অভিযোগ

পরিসংখ্যানবিদ থেকে রাতারাতি পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল গিলে হয়েছে কোটি টাকার মালিক

0
208
কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কর্মরত মোঃ এরশাদুল হক ওরফে কালা তিতাস / ছবি - সংগৃহীত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

‎সামান্য পরিসংখ্যান পদে চাকুরী করে অল্প সময়ে কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কর্মরত মোঃ এরশাদুল হক ওরফে কালা তিতাসের বিরুদ্ধে। শুধু সম্পদই নয়, সে মাদক নারী কেলেঙ্কারি ওষুধ চুরির সিন্ডিকেট সদস্যের সাথে জড়িত। চিলমারী হাসপাতালে দায়িত্বকালীন সময়ে ভাবির সাথে পরকিয়া কেলেঙ্কারি ও ওই ঘটনায় মামলা পর্যন্ত হয়েছিল।

এছাড়াও একাধিক অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ঘটনার সাথে জড়িত ছিল এরশাদুল হক। চিলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মত ন্যক্কার ঘটনার আবারো পুনরাবৃত্তি হচ্ছে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে, পেশি শক্তি ক্ষমতা ও শ্বশুরের রাজনৈতিক প্রভাবে বিস্তারের কারনে এসব কেউ দেখতেছে না।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

‎দেখা গেছে এরশাদুল হক ৫ই আগষ্টের পূর্বে আ’লীগ দোসর আর ৫ আগস্টের পরে বিএনপির নিবেদিত কর্মী বনে যাওয়ার ঘটনা মানুষজন জানলেও শ্বশুরের প্রভাব ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কেউ মুখ খুলতে পারছে না।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের নার্সদের সাথে শ্লীলতাহানী, ইয়াবা ও হিরোইন খেয়ে এসে কুরুচি পুন কথা বার্তা, স্টাফদের সাথে গালিগালাজ করাসহ‎ বিশদ অভিযোগ থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যথাযোগ্য ব্যবস্থাও নিচ্ছে না। ফলে স্বাস্থ্য সেবায় থেকে দিন দিন ভঙ্গুর অবস্থায় চলে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম হাসপাতালটি।

কুড়িগ্রাম‎ সদর হাসপাতালের কর্মকর্তা ও অনান্য স্টাফগন এরশাদুল হকের নির্দেশনা ও পরামর্শ না শুনলে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে এবং সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দাখিল করে হেয়প্রতিপন্ন ও তদন্তের নামে হয়রানী করার একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছে।

‎সম্প্রতি কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের হিসাব সংরক্ষন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের বদলির আদেশ হলেও উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে কর্মস্থল ত্যাগ না করার ঘটনা ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরশাদুল ও রাজ্জাকের যোগসাজশে শ্বশুরের প্রভাব খাটিয়ে নামে বেনামে খবর প্রচার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসপাতাল ঘিরে নানান রচনা কবিতা খোশ গল্প ছড়া ছড়ানো হচ্ছে। সব কিছু সবাই জানলেও প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না কেউ।

‎ফলে বিস্তর অভিযোগ থাকা সত্বেও শ্বশুরের মোঃ হারুন উর রশিদ এর প্রভাব ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ধরার ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় অভিযুক্ত মোঃ এরশাদুল হক। তার অতিষ্ঠে স্টাফদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করায় হাসপাতালের নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেবা গ্রহিতারা। এরশাদুলের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং হাসপাতালের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবী সচেতন মহলের।

‎অনুসন্ধানে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৭ ওয়ার্ডের চিড়ার মিল এলাকায় ৫ম তলা বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। হঠাৎ কোটি টাকা মুল্যের জমি কেনা তার উপরে আর ৫ তলা ভবন করা একজন পরিসংখ্যান পদে চাকুরি করা জন্য কতটুকু সাধ্যের তা সবার জানা।

স্থানীয়রা বলছেন, সামান্য পরিসংখ্যান পদে থেকে প্রায় কোটি টাকা দিয়ে জমি কেনা ও ভবন নির্মান করা অন্যের কাছে দুঃসাধ্য হলে মোঃ এরশাদুল হক তিতাসের কাছে পান্তা ভাতের মত। হাসপাতালের টেন্ডার বাণিজ্য এবং সরকারি ওষুধ চুরির সিন্ডিকেট সদস্য হওয়ায় এসব সম্পদের পাহাড় গড়ছেন খুব অল্প সময়ে।

এছাড়া মন্ত্রণালয়ে ভাই থাকায় চাকুরি বাণিজ্য, চাকুরী প্রতারনা করার ঘটনা ঘটিয়েছে। চাকুরি প্রত্যাশিদের কাছ থেকে স্টাম্পের উপর টাকা নিয়ে চাকুরি না দেওয়ার ঘটনায় এরশাদুল হকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা কুড়িগ্রাম আদালতে চলমান আছে। এছাড়া তৎকালীন সচিবকে ম্যানেজ করে এরশাদুল হকের বর্তমান পরিসংখ্যান পদে আসার ঘটনা পুরো সরকারি চাকুরি প্রবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ সহকর্মীদের।

 

 

সরকারি চাকুরি নিয়োগ প্রবিধি ২০১৮ স্পষ্ট উল্লেখ আছে, পরিসংখ্যানবিদ থেকে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পদে আসতে গেলে তাকে কয়েকটি গ্রেডে চাকরি করে আসতে হয়। প্রথমত ১৪ তম গ্রেডের সংখ্যানবিদ পদে তাকে নুন্যতম ০৫ বছর চাকরি করতে হবে। তারপর তিনি পদোন্নতির যোগ্য হবেন। এরপর তাকে ১২ তম গ্রেডে পদোন্নতি পেতে গেলে তাকে ১৪ তম গ্রেডে ন্যূনতম পাঁচ বছর চাকরি করতে হবে অথবা নিজ বেতনে তাকে পদায়িত হতে হবে। পরবর্তীতে আবার ঠিক একই পদে ১১ তম গ্রেডে পদোন্নতি নিতে হলে তাকে ১২ তম গ্রেডে ন্যূনতম ৩ বছর চাকরি করতে হবে। ঠিক একই ভাবে এই হাসপাতালের ১০তম গ্রেডে চাকরি করতে গেলে তাকে ১১তম গ্রেডে ন্যূনতম পাঁচ বছর চাকরি করতে হবে অথবা পথ শূন্য থাকা সাপেক্ষে নিজ বেতনে অথবা চলতি দায়িত্বে পদায়িত হতে হবে। এই পরিসংখ্যান পদে তার চাকুরী বিধি লঙ্ঘন করে উৎকোচের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে টাকার বিনিময় ১৪ তম গ্রেড থেকে ১০তম গ্রেডে চলতি দায়িত্বে পদায়িত হয়। যাহা নন মেডিকেল কর্মচারী স্বাস্থ্য বিভাগীয় নিয়োগ বিধিমালা ২০১৮ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এছাড়াও সরকারি চাকুরী করে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মানসিক হেনস্তা করার একাধিক প্রমান মিলেছে এরশাদুল হকের বিরুদ্ধে।ভুক্তভোগীরা কোথাও আশ্রয় না পেয়ে থানা শেষে কোর্টের বারান্দায় দৌড়াতে হচ্ছে। শুধুমাত্র শ্বশুরের প্রভাব ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দিনকে রাত আর রাতকে দিন করে এরশাদুল হক অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যাচ্ছেন অনায়সে। সুষ্ঠু তদন্ত করে এরশাদুল হককে দ্রূত শাস্তির আওতায় আনার দাবি সুশীল মহলের।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here