সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত সমন্বয়ে নিরাপদ বিমান চলাচলের লক্ষ্যে ঢাকায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার শুরু, অংশ নিচ্ছেন ১৯ দেশের প্রতিনিধিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘৮ম আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা সেমিনার-২০২৬’। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ সেমিনারের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে সেমিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

এ বছরের সেমিনারের প্রতিপাদ্য—‘প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত সমন্বয়: ভবিষ্যৎ উপযোগী নিরাপত্তা মানসিকতা গড়ে তোলা’। আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ, উন্নত প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং দলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়গুলোতে সেমিনারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, বিমান চলাচল খাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি একদিকে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে, অন্যদিকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, মানসম্মত প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল, কার্যকর নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য।

তিনি বলেন, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিমান বাহিনী প্রধান আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের সেমিনার জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়, যা নিরাপদ ও টেকসই বিমান চলাচলব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

সেমিনারে বাংলাদেশ ছাড়াও ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার প্রতিনিধিরাও এতে যোগ দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিভিন্ন বিমান সংস্থা, উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ একাডেমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরাও সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন।

সেমিনারের বিভিন্ন অধিবেশনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বিমান চলাচলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, মানবিক উপাদান, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, মানুষ ও প্রযুক্তির সমন্বয় এবং দলগত কার্যক্রম নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও মতবিনিময় করছেন।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় বিমান চলাচলে উদীয়মান ঝুঁকি শনাক্তকরণ, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের বিমান চলাচলব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, দক্ষ ও টেকসই করতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সেমিনার আগামী ২৮ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর