বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দাসিয়ারছড়া ছিটমহল মুক্তির ১১তম বার্ষিকী পালিত

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ঐতিহাসিক দাসিয়ারছড়া ছিটমহল মুক্তির ১১তম বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, মোমবাতি প্রজ্বালন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

দাসিয়ারছড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে শুক্রবার (৩১ জুলাই) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. নাসিম পারভেজ তারা এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান জোবায়ের হিমেল।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মো. লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান মুকুলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে দাসিয়ারছড়াসহ সাবেক ছিটমহলবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অনিশ্চয়তা ও নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত জীবনের অবসান ঘটে। তারা ছিটমহল বিনিময়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে এর স্মৃতি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

পরে রাত ১২টা ১ মিনিটে ছিটমহল মুক্তির স্মরণে ৬৮টি মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। মোমবাতির আলোয় স্মরণ করা হয় দীর্ঘ ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তির সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে। আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে কার্যকর হওয়া ভারত-বাংলাদেশ স্থলসীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশে এবং ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর মধ্য দিয়ে দাসিয়ারছড়াসহ দেশের অভ্যন্তরে থাকা ছিটমহলগুলোর বাসিন্দারা দীর্ঘ ৬৮ বছরের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব লাভ করেন।

ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়া দেশের সবচেয়ে বড় সাবেক ছিটমহল। প্রায় ১ হাজার ৬৪৩ দশমিক ৪৪ একর আয়তনের এ ছিটমহলে ৬ হাজার ৫২৯ জন বাসিন্দা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়