১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় উলিপুরে রশি কারখানা: কর্মসংস্থানে নতুন আশার আলো দুই ভাইয়ের উদ্যোগে

0
172
ঢাকার চাকুরী ছেড়ে নিজ গ্রামে রশি তৈরির কারখানা, কর্মসংস্থান সুযোগ তৈরি করলেন দুই ভাই / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :


দীর্ঘ ১৫ বছর ঢাকার অদূরে মুন্সীগঞ্জে চাকরির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার নিজ গ্রামে রশি তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছেন দুই সহোদর। আর্থিক সংকট ও বিদ্যুৎ সমস্যার মধ্যেও তাদের এই উদ্যোগ এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের তিস্তা নদী তীরবর্তী রাজবল্লভ দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের দুই ছেলে মো. নজির হোসেন ও মো. নুর আলম মুন্সীগঞ্জের একটি রশি কারখানায় কর্মরত ছিলেন। নজির হোসেন মেশিন অপারেটর এবং নুর আলম ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করেন। প্রায় দেড় দশক কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর নিজ এলাকায় কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে তারা গ্রামে ফিরে আসেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

নিজেদের সঞ্চয় ও পারিবারিক জমি বন্ধক রেখে সংগৃহীত অর্থে প্রথমে পাঁচটি মেশিন ও প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কিনে বাড়ির ভেতর একটি টিনশেড ঘরে কারখানার কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে দুই বছর পেরিয়ে কারখানাটিতে ১৫টি মেশিন চালু রয়েছে।

এখন এই কারখানায় ছয়জন নারী শ্রমিক কাজ করছেন। শ্রমিক রোশনা জানান, এই কাজ পাওয়ার পর তার সংসারে স্বস্তি ফিরেছে এবং সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আরেক শ্রমিক হোসনা বেগম বলেন, আগে কোনো উপার্জনের সুযোগ ছিল না, এখন নিজের আয়ে সংসারে সহযোগিতা করতে পারছেন।

উদ্যোক্তা মো. নজির হোসেন বলেন, আর্থিক সহায়তা পেলে ৩৫ থেকে ৪০টি মেশিন স্থাপন করে উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হতো। তবে অর্থের অভাবে নতুন মেশিন ও কাঁচামাল কিনতে পারছেন না। নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ থেকে কাঁচামাল এনে স্থানীয় বাজারে উৎপাদিত রশি বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ বন্ধ থাকে, এতে শ্রমিকদের সময় নষ্ট হয় এবং উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষুদ্র ঋণের জন্য সরকারি দপ্তরে আবেদন করেও এখনো কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।

দুই ভাইয়ের বাবা নুর মোহাম্মদ বলেন, জমি বন্ধক রেখে কারখানা শুরু করেছেন তারা। এখনো বড় ধরনের লাভ না হলেও ছেলেদের উদ্যোগ ও পরিশ্রম তাকে আশাবাদী করছে।

উলিপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সমাজকর্মী লক্ষ্মণ সেন গুপ্ত বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও সামান্য পুঁজি সহায়তা পেলে এই কারখানাটি এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here