শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে অবৈধভাবে বালু-পাথর পরিবহনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ছয় অটোভ্যানচালককে আটক করেছে থানা-পুলিশ। এ সময় বালুবোঝাই ছয়টি অটোভ্যান ও একটি মাহিন্দ্রা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় অবৈধভাবে বালু-পাথর পরিবহনের অভিযোগের ভিত্তিতে থানা-পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় বালু-পাথর পরিবহনে ব্যবহৃত ছয়টি অটোভ্যান ও একটি মাহিন্দ্রা গাড়ি জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে এসব যানবাহনে বালু-পাথর পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় চালককে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মামুন, ফরিদ, ফরমান, আনাছ আলী ও ময়নাল। আটক অপর ব্যক্তির নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাঁদের বিস্তারিত পরিচয়ও পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঝিনাইগাতীর পাহাড়ি জনপদে অবৈধভাবে পাহাড় কাটা এবং বালু-পাথর উত্তোলন ও পরিবহনের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা এবং বালু-পাথর ও মাটি সরিয়ে নেওয়ায় পাহাড়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও ভূমির স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
তাঁদের দাবি, শুধু বালু-পাথরবোঝাই যানবাহন জব্দ বা পরিবহনকারীদের আটক করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও এর নেপথ্যের সংশ্লিষ্টদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
পুলিশের এ অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পাহাড়-প্রকৃতি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এই বাংলা/এমএস