বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বোদায় জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ, ২৭ শতক জমি দখল না পাওয়ার অভিযোগ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় কেনা জমিতে চাষাবাদ করতে গিয়ে বাধা ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন জমির হোসেন (৩৩) ও তাঁর দুলাভাই মো. আমজাদ হোসেন (৬৪)। জমি জবরদখল, মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক ১৪টি মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে জমির হোসেনের ছোট ভাই মো. আবু জাফরের (২৯) বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের জমিতে রাতের আঁধারে সুপারি গাছ রোপণ করে দখল নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বোদা উপজেলার ৪ নম্বর কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের বোতোলডাঙ্গা গ্রামে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের আবদুল হামিদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। পরিবারের অভিযোগ, ছোট ছেলে আবু জাফর বাবার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে কৌশলে ২ একর ৭ শতক জমি দলিল করে নেন, যদিও নিয়ম অনুযায়ী তাঁর পাওয়ার কথা ছিল ১ একর ১৯ শতক।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় আবদুল হামিদ সন্তানদের মধ্যে নতুন করে জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। একই দিনে একই দলিলে তাঁর তিন মেয়ে শিরিনা, রাবেয়া ও শুমিকে ৪৫ শতক করে এবং মেজ ছেলে জমির হোসেনকে ১ একর ১৯ শতক জমি দেওয়া হয়। ওই দলিলের নম্বর ৭৯০।

এ ছাড়া আবদুল হামিদের বড় ছেলে মো. জাকারিয়া মারা যাওয়ার পর তাঁর তিন মেয়ে জান্নাতি, জুই ও জুথিকে ৪২ শতক করে জমি দেওয়া হয়। জাকারিয়ার স্ত্রী সাহেরা বেগমকেও ১৬.৫০ শতক জমি দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরিবারের আরও দাবি, আবদুল হামিদ তাঁর স্ত্রী হামিদা বেগমের নামে দুটি দলিলে ২ বিঘা জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। পরে জমির হোসেন হামিদা বেগমের কাছ থেকে বৈধ প্রক্রিয়ায় ১৬.৫০ শতক জমি কেনেন, যার দলিল নম্বর ৩০৩। একই দলিল থেকে আবু জাফরও সমপরিমাণ জমি কেনেন, যার দলিল নম্বর ৩০৪।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির হোসেনের কেনা ১৬.৫০ শতক জমি আবু জাফর জোরপূর্বক দখলে নিয়ে রাতের আঁধারে সেখানে সুপারি গাছ রোপণ করেন। এ ছাড়া জমির হোসেনের মা জামিলা বেগম স্থানীয় আবদুল ছামাদের কাছ থেকে ২ বিঘা জমি কিনলেও সেই জমিও আবু জাফর এককভাবে দখল করে ভোগ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, জমির হোসেন ও আবু জাফরের দুলাভাই মো. আমজাদ হোসেন তাঁদের বোন রাবেয়া ও শুমির কাছ থেকে ৫৭ শতক জমি কেনেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই জমির মধ্যে ৩০ শতক বুঝিয়ে দেওয়া হলেও বাকি ২৭ শতক জমি নদীর মধ্যে দেখিয়ে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বর্তমানে ৮৭৩ নম্বর দাগে তাঁদের রেকর্ডভুক্ত ২৭ শতক জমিও দখলে নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া জমির হোসেন ও তাঁর দুলাভাই এলাকার অন্য ব্যক্তিদের কাছ থেকেও জমি কিনেছেন। কিন্তু স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাব খাটিয়ে আবু জাফর সেসব জমির ভোগদখলেও বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।

জমির হোসেন ও আমজাদ হোসেনের অভিযোগ, জমির দখল নিতে গেলে তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দাঙ্গাবাজদের ব্যবহার করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি, তাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক ১৪টি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

তাঁদের আরও অভিযোগ, এলাকার কয়েকজনকে দিয়ে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া এবং চাঁদা দাবি করার ঘটনাও ঘটেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বিরোধের সমাধানে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আবু জাফরের অনমনীয় অবস্থানের কারণে কোনো সমাধান হয়নি। উল্টো মামলা ও হুমকির কারণে তাঁরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি করেন।

এ অবস্থায় পৈতৃক ও কেনা জমিতে নিজেদের আইনগত অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবু জাফর। তাঁর বক্তব্য, তিনি প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে ওই জমিতে কৃষিকাজ করে আসছেন। জমিতে তাঁর নিজস্ব অংশ বা জমি থাকায় তিনি সেখানে সুপারি গাছ রোপণ করেছেন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর