বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ওয়ারীতে প্রতারণা মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত পিতা-পুত্র গ্রেপ্তার

আবু বক্কর সিদ্দিক, নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

 

রাজধানীর ওয়ারী থানায় দায়ের করা প্রতারণা মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামি পিতা ও পুত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২০ অক্টোবর রাতে মো. বোরহান উদ্দিন (৫৭) ও তাঁর ছেলে মো. উদয় আহমেদকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা যথাক্রমে মেসার্স ইউ আর মেরিন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও ম্যানেজার বলে জানা গেছে।

মেরিন সলভেজ এন্ট্রিক্স এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. মোক্তার হোসেনের দায়ের করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বোরহান উদ্দিন ও মোক্তার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলেন। তাঁদের ব্যবসার সঙ্গে জাহাজে ব্যবহারের উপযোগী বিভিন্ন ধরনের লাইট ও অন্যান্য সামুদ্রিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়টি জড়িত। এসব পণ্য বিদেশি ক্রেতাদের মাধ্যমে রপ্তানি এবং জাহাজে ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জাহাজে ব্যবহারের উপযোগী লাইট ও অন্যান্য পণ্য সরবরাহের কথা বলে বোরহান উদ্দিন অগ্রিম টাকা গ্রহণ করেন। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দীর্ঘদিনেও সংশ্লিষ্ট পণ্য সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।

মামলার বাদী মোক্তার হোসেনের অভিযোগ, পণ্য সরবরাহের জন্য অগ্রিম অর্থ দেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে মালামাল বুঝে না পাওয়ায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়। বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা নিয়েও সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। এর ফলে তাঁর প্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রমে পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জাহাজে ব্যবহারের সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী লেনদেন সম্পন্ন করা জরুরি। মামলার বাদীর দাবি, সময়মতো পণ্য সরবরাহ না হওয়ায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক লেনদেনে আস্থার সংকটও তৈরি করতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

এ ঘটনায় বোরহান উদ্দিন ও উদয় আহমেদের গ্রেপ্তারের পর মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নিরূপণ করা আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর