মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনুমোদনহীন ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে আলম খান নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি ধামশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বলে জানা গেছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় তাঁকে এ জরিমানা করা হয়।
উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নের নাটুয়াবাড়ী গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মানিকগঞ্জ জেলার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নাটুয়াবাড়ী গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে মিষ্টির দোকানের অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সন্দেশ তৈরি করা হচ্ছে। পরে এসব পণ্য ‘নাটোরের কাঁচাগোল্লা অ্যান্ড সন্দেশ’, ‘চুমকি সন্দেশ’সহ বিভিন্ন নামে বাজারে বিক্রি করা হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব খাদ্যপণ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, একই ধরনের অপরাধে এর আগেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েকবার জরিমানা করা হয়েছে। একই গ্রামের অন্য কয়েকজনকে আগে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁরা। এরপরও এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, খাদ্য তৈরিতে অনিরাপদ উপকরণ ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করা হলে শিশুদের পাশাপাশি সব বয়সী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
স্থানীয়রা ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন যাচাই এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।