সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহীতে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবককে মারধর, বাড়িতে হামলা-লুট

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

রাজশাহীর কাটাখালী থানার বুধপাড়া এলাকায় বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে এক যুবককে মারধর, বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় মো. মোয়াজ্জেম হোসেন আদালতে মামলা করেছেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ ও বাদীপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে মো. সিহাব শাহরিয়ারকে মোহনপুর নূরানী মাদ্রাসার সামনে কয়েকজন ব্যক্তি ঘিরে ধরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, এ সময় মো. রতন আলী ছুরি দিয়ে সিহাবের গলা লক্ষ্য করে আঘাতের চেষ্টা করেন। এতে তাঁর বাম চোখের ওপরের অংশে আঘাত লাগে। মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, অন্যরা লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে সিহাবের মাথা, পিঠ, পা ও হাঁটুতে আঘাত করেন।

বাদীপক্ষের ভাষ্য, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যান। পরে আহত সিহাবকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে পথরোধ করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

রাতে বাড়িতে হামলার অভিযোগ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রাতেই ১৫ থেকে ২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তরা মোয়াজ্জেম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি, বাড়ির সদর দরজা ভাঙচুর এবং টেলিভিশন, ফ্রিজ, সোফা ও আলমারিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, হামলা ও ভাঙচুরে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ ছাড়া আলমারিতে রাখা প্রায় সোয়া সাত ভরি স্বর্ণালংকার—তিনটি চেইন, তিন সেট কানের ঝুমকা, দুটি আংটি ও চারটি রুলি-বালা—এবং শোকেসের ড্রয়ারে থাকা ৩ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। একই সঙ্গে মামলা করলে বাড়িতে আগুন দিয়ে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে বাদী অভিযোগ করেছেন।

নথিতে ৯ জনের নাম

মামলার নথিতে অভিযুক্ত হিসেবে মো. রতন আলী (২৬), মো. সুমন আলী (৩০), মো. রিপন আলী (৩৩), মো. মামুন আলী (২৫), মো. সজিব (২৩), মো. সাজিদ (১৯), মো. শহিদুল ইসলাম (২৮), মো. এমান আলী (১৯) ও মো. নজরুল ইসলাম (৪২)—এই নয়জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের সবার ঠিকানা রাজশাহীর কাটাখালী থানার বুধপাড়া এলাকায়।

মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর