চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সরকারি জায়গা ও সড়ক দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং লাইসেন্সবিহীন ওষুধের দোকানের বিরুদ্ধে অভিযানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে উপজেলা প্রশাসন।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর (রসুলপুর) এলাকায় সেরিকালচার সংলগ্ন সড়কের ওপর নির্মিত একটি বসতবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সতর্ক করার পরও সড়কের ওপর স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানাউল মোর্শেদের নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল অভিযান চালিয়ে স্থাপনাটি উচ্ছেদ করে।
এদিকে জ্বালানি তেলের সংকটের সময় উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ভোলাহাট ফিলিং স্টেশনে সুশৃঙ্খল পরিবেশে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি ভোলাহাট রামেশ্বর মডেল পাইলট ইনস্টিটিউশনের মাঠে মাটি ভরাট করে খেলাধুলার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন বড় জামবাড়ীয়া ও আন্ধীপুর এলাকায় সড়ক ও ছোট ব্রিজের সংস্কার এবং মাটি ভরাটের অভাবে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ছিল। বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হোসেন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
বড় জামবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফাজ উদ্দিন পানু মিঞা বলেন, বর্তমান উপজেলা প্রশাসন উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি সহযোগিতা পেয়েছেন বলেও জানান।
অন্যদিকে, উপজেলার সন্ন্যাসীতলা মেডিকেল মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি ফার্মেসিকে ড্রাগ লাইসেন্স না থাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে মোট ৪১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানাউল মোর্শেদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
এছাড়া বাহাদুরগঞ্জ বাজারে ডিগ্রিবিহীন চিকিৎসকের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে আশরাফুল ইসলামকে ১৫ হাজার টাকা এবং ইমামনগর বাজারে একই অভিযোগে আমীর হোসেন টফিককে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
২ নম্বর গোহালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মাজহারুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সড়কে সিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইমামনগর বাজার থেকে মসজিদমুখী সড়কে ১৭০ ফুট, গোহালবাড়ীতে ৩০০ ফুট, ফরিদা মেম্বারের এলাকায় ১৫০ ফুট এবং চেয়ারম্যানের পুরোনো বাড়ি সংলগ্ন সড়কে সিসি ঢালাই করা হয়েছে। এছাড়া রাধানগর, কালীতলা ও মুন্সিগঞ্জ এলাকাতেও সিসি ঢালাইয়ের কাজ হয়েছে।
উপজেলার বৃহত্তর বজরাটেক নদীর ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের বসার জন্য ‘ছাতি’ নির্মাণের পাশাপাশি বিভিন্ন ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
৩ নম্বর দলদলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. মোজাম্মেল হক চুটু জানান, তাঁর ইউনিয়নের বটতলা গ্রামে মতির পুকুর থেকে সড়ক পর্যন্ত ৪০০ ফুট সিসি ঢালাই করা হয়েছে। এছাড়া পোল্লাডাঙ্গা নতুন হাজীপাড়া থেকে রাকিব মোড় পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মিটার এলাকার ড্রেন ও আগাছা পরিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানাউল মোর্শেদ বলেন, ভোলাহাট উপজেলা ছোট হলেও এখানে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সুযোগ রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এই বাংলা/এমএস