মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আনা এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে একাধিক বন্দরের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বন্দরটির চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা।
সভায় বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধা, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং বন্দরের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও বিভিন্ন অপারেশনাল সমস্যার কারণে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ডিপ ওয়াটার সুবিধা, আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।
এসব সীমাবদ্ধতা কাটাতে একটি আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্দরকে ঘিরে সমন্বিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে প্রায় ১০০ একর জমিতে শিল্প-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও সভায় জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বন্দরসংলগ্ন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলে পণ্য পরিবহনে সময় ও দূরত্ব কমানো সম্ভব হতে পারে। এতে আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের লজিস্টিকস ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
মতবিনিময় সভায় মোংলা বন্দরের ভৌগোলিক অবস্থান, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বন্দরের সঙ্গে দেশের সড়ক ও নৌ যোগাযোগ আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলমান ও পরিকল্পিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের কার্গো ও কনটেইনার ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিপিং কার্যক্রমে বন্দরের ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পায়ন হলে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ানুবর্তিতা, কার্যকর তদারকি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলেও মত দেন তারা।
মতবিনিময় সভায় বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এই বাংলা/এমএস