নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হরিদা খলসী গ্রামের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসানে নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সংস্কারে নেমেছেন এলাকাবাসী। রোববার বিকেলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে স্থানীয় বাসিন্দারা সংস্কারকাজে অংশ নেন।
উপজেলার ৫ নম্বর বিপ্রবেলঘরিয়া ইউনিয়নের হরিদা খলসী গ্রামের সোনারপাড়া থেকে রাস্তাটি শুরু হয়ে বানুর ভাগ গ্রামের প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাদায় পরিণত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বর্ষায় রাস্তাটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও কাদা সৃষ্টি হয়েছে। এসব খানাখন্দে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং হাটবাজারে চলাচলেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ না পাওয়ায় তারা নিজেরাই সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য স্থানীয়ভাবে একটি রাস্তা সংস্কার তহবিল গঠন করা হয়েছে। গ্রামের প্রতিটি বাড়ি থেকে ‘মুষ্টির চাল’ সংগ্রহ করে তহবিলে জমা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনেকে নগদ অর্থও দিয়েছেন। যারা অর্থ বা চাল দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেননি, তারা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সংস্কারকাজে অংশ নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মইন আলী বলেন, হাটবাজারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াতের জন্য এই রাস্তাটিই তাদের প্রধান ভরসা। দীর্ঘদিনেও সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে কাজ শুরু করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে রাস্তাটির স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য একাধিকবার সহযোগিতা চাওয়া হলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
৫ নম্বর বিপ্রবেলঘরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জিল্লুর রহমান বলেন, এলাকাবাসীর নিজ উদ্যোগে রাস্তা সংস্কারের খবর পেয়ে তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সঙ্গে কাজে অংশ নিয়েছেন। তিনি এ উদ্যোগের প্রশংসা করে রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশিদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত সরকারি উদ্যোগে রাস্তাটির স্থায়ী উন্নয়ন ও পাকাকরণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
এই বাংলাএমএস