কালভার্টের মুখ ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ, জলাবদ্ধতায় ডুবেছে হাজার একর জমি
এইবাংলা অনলাইন
প্রকাশকালঃ
বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের মুখ মাটি দিয়ে ভরাট করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার একর আবাদি জমি, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সড়ক, বসতবাড়ি ও বাগান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন চারটি গ্রামের বাসিন্দারা।
জানা গেছে, উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের সতিপুরি মৌজায় স্থানীয় সরকার বিভাগের ক্ষুদ্র পানি প্রকৌশল প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০ বছর আগে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধের ভেতরে রয়েছে প্রায় এক হাজার একর আবাদি জমি, চারটি গ্রাম, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সংযোগ সড়ক। পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধের পশ্চিম পাশে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছয় মাস আগে কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে জমির মালিক দুই ভাই মো. সোনাউল্লাহ ও মো. আমান উল্লাহ বাড়ি নির্মাণ করেন। এরপর থেকেই বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
জলাবদ্ধতার কারণে সতিপুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও বিদ্যালয়ে যাওয়ার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে একটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, প্রায় পাঁচ মাস ধরে জলাবদ্ধতা চলছে। বিদ্যালয়ের মাঠ ও সংযোগ সড়ক পানিতে ডুবে থাকায় শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবু সাইদ বলেন, কালভার্ট বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করায় চারটি গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। প্রায় তিন হাজার বিঘা জমি পানির নিচে রয়েছে। এতে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কৃষক মো. ওসমান গনি জানান, তার বাগানের বিভিন্ন গাছ পানিতে নষ্ট হচ্ছে। আমন ধানের বীজতলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জমিতে পানি জমে থাকায় আমন চাষ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
মোছা. মমেনা বেগম বলেন, বাড়ির উঠান পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। টয়লেটও ডুবে রয়েছে। প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. আমান উল্লাহ বলেন, অন্য কোনো জমি না থাকায় বাধ্য হয়ে তিনি ও তার ভাই সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বাড়ির মালিকের সঙ্গে কালভার্টের মুখ খুলে দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। তবে এখনো সমাধান না হওয়ায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।