স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহীর বোয়ালিয়া বড়কুঠি ভূমি অফিসের সপুরা আদায় কেন্দ্রে আদালতের স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় হোল্ডিং চালু করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট তহশিলদার (ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা) সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে ভূমি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বোয়ালিয়ার আদালতে আসাদুল্লাহ বাদী হয়ে মোছা. আনোয়ারাকে বিবাদী করে একটি নামজারি (নাম খারিজ) বাতিল মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৫ মার্চ তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিত সরকার সংশ্লিষ্ট নামজারি বাতিল করে জমি মূল হোল্ডিংয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন।
পরে মোছা. আনোয়ারা রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর আপিল করেন। আপিল শুনানিতে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট জমি আরএস হোল্ডিংয়ে ফিরিয়ে দিয়ে সকল হোল্ডিং স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আসাদুল্লাহ ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) কার্যালয়ে আপিল করেন। আপিলটি গ্রহণ করে ৬ মে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ড. চিত্রলেখা নাজনীন আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন আগামী ৭ জুলাই।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
অভিযোগ রয়েছে, এ আদেশ কার্যকর থাকা সত্ত্বেও তহশিলদার সাইফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংগুলো পুনরায় চালু করেন। বিষয়টি নিয়ে সংবাদকর্মীরা ভূমি অফিসে গেলে তিনি দাবি করেন, তার কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি রয়েছে। তবে চিঠিতে হোল্ডিং চালুর কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়।
সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি চিঠির ভাষা বুঝতে পারেননি এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাকে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন বলে ধারণা করেছিলেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সামনে হোল্ডিং পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানান।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তিনি রেজিস্টার বই থেকে কয়েকটি পাতা ছিঁড়ে ফেলেন। পুরো ঘটনার ভিডিওচিত্র সংবাদকর্মীদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে সাংবাদিকরা চলে যাওয়ার পর পুনরায় হোল্ডিং চালু করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান বলেন, তিনি কোনো মৌখিক নির্দেশ দেননি। বরং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আদালতের আদেশ অনুযায়ী লিখিতভাবে নির্দেশনা প্রতিপালনের কথা বলেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাদের মতে, ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এমন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

