কুড়িগ্রামে জয়–পরাজয়ের নির্ধারক হতে পারেন নারী ভোটাররা

0
139
কুড়িগ্রামের ৪টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারণ করবেন নারী ভোটাররা / ফাইল ফুটেজ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে কুড়িগ্রাম জেলায় জয়–পরাজয়ের চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারেন নারী ভোটাররা। কারণ জেলাটিতে পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নদ-নদীময় উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রাম ভারতের তিনটি রাজ্যের সঙ্গে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার সীমান্ত দ্বারা বেষ্টিত। ১৬টি নদ-নদী ও প্রায় ৩২০ কিলোমিটার চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত এ জেলায় রয়েছে ৯টি উপজেলা, ৭৩টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভা। কুড়িগ্রামে মোট চারটি সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৭ জন প্রার্থী।

কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭৮ জন, নারী ভোটার ৯ লাখ ৫৪ হাজার ২৪২ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১৪ জন। শতাংশের হিসাবে নারী ভোটার ৫০ দশমিক ২২ এবং পুরুষ ভোটার ৪৯ দশমিক ৪৮।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পৌর শহরের বাসিন্দা মো. জলিল মিয়া বলেন, “প্রতিটি আসনেই নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী না থাকায় আমরা হতাশ। তারপরও নারী ভোটাররা এমন প্রার্থীই বেছে নেবেন, যিনি নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব দেবেন।”

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত কুড়িগ্রাম জেলায় নারীরাও অবহেলিত বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তাই এবারের নির্বাচনে জেলার পিছিয়ে থাকা নারীরা উন্নয়ন ও নারীবান্ধব চিন্তাধারার প্রার্থী দেখে বুঝে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নারী ভোটার মোছা. আছমা বেগম বলেন, “নারীদের অবদানের কারণেই কুড়িগ্রাম দারিদ্র্যের তালিকায় পিছিয়ে এসে ৫৬তম অবস্থানে এসেছে। নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য দেশ-বিদেশে বাজারজাতের সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি সীমান্ত জেলা হওয়ায় নারীরা যেন মাদক, চোরাচালান ও পাচারের মতো অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সে ব্যবস্থাও নিতে হবে।”

আফাদ এনজিওর নির্বাহী প্রধান মোছা. সাইদা ইয়াসমিন বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীবান্ধব নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। এতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে গিয়ে নারীদের পক্ষে কার্যকরভাবে কথা বলতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে নারী নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হবে।”

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, ভোটের দিন প্রত্যন্ত ও চরাঞ্চলের ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নদী এলাকায় যাতায়াত নিশ্চিত করতে ১৬টি নৌকা, ৭টি স্পিডবোট এবং ঘোড়ার গাড়িতে বিনামূল্যে পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে কুড়িগ্রামে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্তই যে ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে আশাবাদী সচেতন মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here