সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে যৌথ বাহিনীর কম্বিং অপারেশন, পক্ষকালেও উদ্ধার হয়নি ২০ জেলে

0
87
‎সুন্দরবনে পক্ষকাল পার হলেও উদ্ধার সম্ভব হযনি জিম্মি জেলেদের / ছবি - এই বাংলা

বাগেরহাট প্রতিনিধি :

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এলাকায় বনদস্যুতা দমনে যৌথ বাহিনীর কম্বিং অপারেশন অব্যাহত রয়েছে। কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, র‌্যাব, নৌপুলিশ, পুলিশ ও বন বিভাগ এ অভিযানে অংশ নিয়েছে। তবে পক্ষকালব্যাপী অভিযান চললেও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি অপহৃত ২০ জেলেকে।

গত মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ যৌথ অভিযান দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। কিন্তু অপহরণের দুই সপ্তাহ পার হলেও জিম্মিদের মুক্তি মেলেনি, যা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন পরিবার ও মহাজনরা।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে বঙ্গোপসাগর-এর নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়িয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করে বন ও জলদস্যু সুমন এবং জাহাঙ্গীর বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা। অপহৃতরা পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চর শুঁটকি পল্লীর আলোরকোল ও নারিকেলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। তাদের বাড়ি পাইকগাছা, কয়রাআশাশুনি উপজেলায়।

মহাজনদের দাবি, জিম্মিদের মুক্তিপণ হিসেবে জনপ্রতি সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করেছে দস্যুরা। দাবি করা অর্থ পরিশোধ না করলে করুণ পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ফলে চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত দেড় বছরে অন্তত ২০টি বনদস্যু বাহিনীর উত্থান ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে অভিযান শুরু হয়। এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সার্কিট হাউসে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার প্রশাসনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, সরকার নির্দেশনা দিয়েছে দস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে। দস্যু নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দুবলার চর শুঁটকি পল্লীর মহাজন মোতাসিম ফরাজী, জাকির শেখ, আব্দুর রউফ মেম্বার ও পঙ্কজ বিশ্বাস জানান, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেবল দিনের বেলা মাছ ধরছেন। অভিযান শুরু হলেও দৃশ্যমান ফলাফল না পাওয়ায় হতাশা বাড়ছে।

দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুন্দরবন আবারও দস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মাছের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি গোপন ও ছদ্মবেশে অভিযান পরিচালনার পরামর্শ দেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, যে কোনো মূল্যে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং জেলে ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here