বরিশাল ব্যুরো :
কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার ও পুনর্বাসনের পর ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেবে পুনরায় চালু করা হলেও গত দুই মাস ধরে বরিশাল–ঢাকা নৌপথে চলাচল বন্ধ রয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’। রাষ্ট্রীয় নৌ পরিবহন সংস্থা বিআইডব্লিউটিসির তত্ত্বাবধানে মেরামত শেষে নৌযানটি ইজারাদারের কাছে হস্তান্তরের পর কার্যত বরিশাল রুট থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, প্রায় পাঁচ বছর অচল থাকার পর ব্যাপক সংস্কার শেষে গত ২৮ নভেম্বর পিএস মাহসুদ ঢাকা থেকে বরিশাল যাত্রা শুরু করে এবং পরদিন ঢাকায় ফিরে আসে। এর আগে ১৫ নভেম্বর নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন নৌযানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরীক্ষামূলকভাবে তিনি নিজেও ঢাকা–চাঁদপুর–ঢাকা নৌপথে ভ্রমণ করেন।
তবে ৫ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বার বরিশালে এসে ৬ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরার পর আর বরিশালমুখী যাত্রা করেনি পিএস মাহসুদ। পরে ১২ ডিসেম্বর কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিককে নিয়ে ঢাকা–চাঁদপুর নৌভ্রমণের পর নৌযানটি ইজারাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
‘গ্রীন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান মাসিক ১ লাখ ৪১ হাজার টাকার বিনিময়ে নৌযানটি ইজারা নেয়। চুক্তি অনুযায়ী সপ্তাহে অন্তত একদিন ঢাকা–বরিশাল নৌপথে চলাচলের কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হচ্ছে না। ফলে গত দুই মাসে একবারও বরিশাল রুটে দেখা মেলেনি এই ঐতিহ্যবাহী স্টিমারের।
বিআইডব্লিউটিসির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ইজারাদার প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের বাণিজ্যিক সুবিধা বিবেচনায় নৌযান পরিচালনা করছে। এতে সংস্থার পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত—সপ্তাহে অন্তত একদিন বরিশাল–ঢাকা রুটে চলাচল—কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
জানা গেছে, ইজারাদার প্রতিষ্ঠানটি নৌযানে কর্মরত ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাবদ মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা এবং ইজারা মূল্য বাবদ ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা পরিশোধ করছে। ছয় মাসের অগ্রিম ভাড়ার বিনিময়ে দুই বছরের জন্য এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহ জানান, পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যেই একটি দক্ষ ট্যুর অপারেটরের কাছে পিএস মাহসুদ হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে ঐতিহ্যবাহী নৌযান ইজারা দেওয়ার বিষয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, নৌযানটির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, গত ১২ নভেম্বর নৌ পরিবহন উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসকে পিএস মাহসুদ পুনরায় চালুর বিষয়ে অবহিত করলে তিনি ঐতিহ্যবাহী নৌযান সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
তবে বাস্তবে পিএস মাহসুদ ইজারা দেওয়ার পর পিএস অস্ট্রিচের ইজারাও চূড়ান্ত হয়েছে। শিগগিরই ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সেটিও পাঁচ বছরের জন্য হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। অতীতে বেআইনি ইজারার কারণে পিএস অস্ট্রিচ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সংস্থার মালিকানাধীন পিএস লেপচা ও পিএস টার্ণ নামের আরও দুটি প্যাডেল স্টিমার দীর্ঘদিন ধরে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এসব ঐতিহ্যবাহী নৌযানের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ফলে ঐতিহ্য সংরক্ষণের সরকারি ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নৌ পরিবহন ও পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট মহল।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

