লালপুরে থামছে না সেচ প্রকল্পের ট্রান্সফরমার চুরি, বিপাকে কৃষকরা

0
373
নাটোরের লালপুরে ৯ মাসে সেচ প্রকল্পের ৩৯টি ট্রান্সফরমার চুরি / ছবি - এই বাংলা

নাটোর প্রতিনিধি :


নাটোরের লালপুর উপজেলায় সেচ প্রকল্পে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সর্বশেষ গত সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার উধনপাড়া গ্রাম থেকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সেচ প্রকল্পের তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে বিএডিসির লালপুর উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী ইসরাফিল হোসেন বাদী হয়ে লালপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

বিএডিসি সূত্র জানায়, উধনপাড়া গ্রামের আইএ-৭০-১০ নম্বর বৈদ্যুতিক খুঁটিতে স্থাপিত ১০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া হতো। সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার নামিয়ে ভেতরের তামাসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যায়। সকালে জমিতে পড়ে থাকা ট্রান্সফরমারের খালি খোলস দেখে বিষয়টি ধরা পড়ে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

ট্রান্সফরমারগুলোর তত্ত্বাবধানে থাকা আনিসুর রহমান (৪২) জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে সবকিছু স্বাভাবিক রেখে তিনি বাড়ি যান। সকালে ফিরে এসে দেখেন ট্রান্সফরমারের ভেতরের সব যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমন মৌসুম থেকেই এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির আতঙ্ক ছিল। শেষ পর্যন্ত আমাদের ক্ষেত্রেও সেই ঘটনা ঘটল।”

একটির পর একটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় সেচ ব্যবস্থা ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত নয় মাসে লালপুর উপজেলায় মোট ৩৯টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এসব ট্রান্সফরমারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩১ লাখ টাকা।

সেচনির্ভর কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আসন্ন বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং ফসল উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর লালপুর জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, “একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে ট্রান্সফরমার চুরি করছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবর রহমান জানান, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি ও লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। চোর চক্র শনাক্ত এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here