নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর কবিরহাটে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বিএনপি নেতাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদ (৪৫)-কে।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ড ঘটেছে গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজার সংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে।
নিহত যুবকের নাম মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫)। তিনি কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার ভুয়া পুলিশের বাড়ির মো. শহীদের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক। মিজান প্রজেক্ট ও মুরগির খামারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১০ জানুয়ারি পাঁচ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মিজানের শ্বশুর ও শ্যালকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় মিজান ক্ষোভের শিকার হন। শনিবার সন্ধ্যায় কাজ আছে বলে ডেকে নিয়ে যান কিছু ব্যক্তি।
রাত পৌনে ১০টার দিকে মাসুদ মিজানের ভগ্নিপতি আবু তাহেরকে হুমকি দেন, যাতে মিজান প্রতিবাদ না করে। এরপর মিজান বাজারে নিজের ব্যবসা সংক্রান্ত পাওনা চাইলে মাসুদ ও তার সহযোগীরা মিজানের মুখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত চালিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে। হামলাকারীরা পরে মরদেহ সড়কে ফেলে পালিয়ে যায়।
নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, দ্রুত মামলায় সব আসামি নাম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি; আইনগত প্রক্রিয়ায় পরে নাম যুক্ত করা হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে এনামুল হক মাসুদ বলেন, “আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। গণপিটুনিতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি সেই সময় আমার দোকানে ছিলাম।”
ওসি মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা জানান, নিহতের স্ত্রী সিমা বাদী হয়ে সোমবার কবিরহাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর-১০)। মামলায় সন্দেহভাজন ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ১৫–২০ অজ্ঞাতনামা আসামির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

