সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গোৎসবের মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা দিতে চায় বাংলাদেশ: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

 

শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও নিরাপদ পরিবেশের চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায় সরকার। দেশের প্রতিটি নাগরিক ও সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করছেন এবং নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন—এ বার্তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পৌঁছে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা বিশ্বের কাছে দেখাতে চাই, এই দেশের প্রতিটি নাগরিক, প্রতিটি সম্প্রদায় ও প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী নিরাপদ। তারা নিরাপদে বসবাস করে এবং শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে।”

দুর্গোৎসবকে ঘিরে গুজব, অপপ্রচার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট কোনো ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট কিংবা দেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা হতে পারে। এ কারণে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পূজা উদ্‌যাপন কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, মহানগর এলাকার বাইরে চট্টগ্রাম জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ২ হাজার ২৮৭টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি মণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি থাকবে। কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে পূজা উদ্‌যাপন কমিটিকে দ্রুত প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, গুজব ও অপপ্রচার দুর্গোৎসবের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের তৎপরতা মোকাবিলায় সাইবার ইউনিট সক্রিয় থাকবে। তিনি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা প্রস্তুত এবং তাঁদের পরিচিতির জন্য নির্ধারিত পোশাক বা আর্মব্যান্ড ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

প্রতিমা তৈরি, পরিবহন ও বিসর্জনের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জেলা প্রশাসক বলেন, সম্ভব হলে দিনের আলোয় প্রতিমা মণ্ডপে আনা এবং সূর্যাস্তের আগেই বিসর্জন সম্পন্ন করা উচিত।

বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবহৃত যানবাহনের ফিটনেস এবং চালকের শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করারও তাগিদ দেওয়া হয় সভায়।

দুর্গোৎসবের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমাদের মনটা আরও বড় করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও উদারতার শিক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।”

শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সভায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তর ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর