নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :
মফস্বল এলাকায় সাংবাদিকতার মাঠে দিন দিন জটিলতা বাড়ছে। সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন, দলাদলি, পারস্পরিক হয়রানি এবং নানা নামে একাধিক সংগঠন গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। নতুন কোনো সাংবাদিকের আগমন অনেক ক্ষেত্রে সিনিয়রদের একটি অংশ সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না—যার ভুক্তভোগী হচ্ছেন নবীন ও পেশাদার হতে আগ্রহী সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকতার প্রতি ভালোবাসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই বহু তরুণ এই পেশায় আসছেন। অনেকেই ছোটবেলা থেকেই সংবাদপত্র, টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্রে সাংবাদিক চরিত্র দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সমাজের দর্পণ হিসেবে সাংবাদিকতার ভূমিকা বিশ্বাস করেই তারা এই পেশায় যুক্ত হন। কিন্তু বাস্তবতায় এসে অনেকেই হতাশ হচ্ছেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বর্তমানে মফস্বলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রায় বিলুপ্তির পথে। পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকরা নানামুখী চাপের মুখে পড়ছেন। সাইবার হয়রানি, হুমকি, অপপ্রচার, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই। এর ফলে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
একদিকে প্রতিটি অঞ্চলে প্রতিদিন সাংবাদিকের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। বিভিন্ন পেশা ছেড়ে অনেকেই ‘সহজ পেশা’ ভেবে সাংবাদিকতায় যুক্ত হচ্ছেন—যা পেশাটির মান, নৈতিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, অভিজ্ঞ ও পেশাদার সাংবাদিকরা টিকে থাকার লড়াইয়ে সাংবাদিকতা ছেড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়ছেন। এতে সংকট আরও গভীর হচ্ছে। একই সঙ্গে একই এলাকায় একাধিক সাংবাদিক সংগঠন, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও পারস্পরিক অবিশ্বাস সাংবাদিক সমাজের ঐক্যকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
ফলে সাংবাদিকদের ন্যায্য দাবি আদায়, পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষার প্রশ্নে সম্মিলিত অবস্থান গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণে সবচেয়ে জরুরি হলো পেশাগত ঐক্য, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের পুনরুদ্ধার। স্বচ্ছ মানদণ্ডে সাংবাদিকতা চর্চা, প্রশিক্ষণভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় না হলে মফস্বলে সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।
এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার এই শূন্যতা সমাজ ও গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

