
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দেওয়ানোর অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতার নাম মোঃ মোকাদ্দেস হোসাইন। তিনি ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং শিলখুড়ী ইউনিয়ন শাখার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান (মিন্টু) ও সদস্যসচিব মাইদুল হোসাইনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অব্যাহতির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে শিলখুড়ী ইউনিয়ন শাখার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সে বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দেওয়ানোর একটি ৪৫ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে স্লোগান দিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বলছে— ‘আমরা যদি বড় হতাম, ধানের শীষে ভোট দিতাম’, ‘আমরা যদি ভোটার হতাম, রানা ভাইকে ভোট দিতাম’।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতি পাওয়া মোঃ মোকাদ্দেস হোসাইন মুঠোফোনে জানান, তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছেন এবং দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেবেন।
কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের দিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ানোর বিষয়টি অত্যন্ত অনভিপ্রেত। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
