নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি :
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের সময় বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের এক বেদনাদায়ক ও ব্যতিক্রমী অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তবে এ ঘটনার পরও তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ভাষা সংগ্রামী অলি আহাদ-এর আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ ও আশ্রয়েই তিনি রাজনীতিতে এতদূর এগিয়েছেন। আপসহীন রাজনীতির শিক্ষা তিনি বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকেই পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, “আজ আমি আমার রাজনৈতিক অভিভাবককে হারিয়েছি, যাঁর আদর্শ ধারণ করেই রাজনীতি করেছি।”
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেই দেশনেত্রীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। সে সময় বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, কেন তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ মোট নয়জনকে দল থেকে বহিষ্কার করে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বহিষ্কারের পর ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে তিনি বলেন, “আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের বোঝার বাইরে। ১৯৭৩ সালে আমার বাবা অলি আহাদ আওয়ামী লীগের প্রবল জোয়ারের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। আজ আমাকে ধানের শীষের শক্ত ঘাঁটিতে স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করতে হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এবার ওই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মাওলানা জুনাইদ আল হাবিবকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। দলীয় বহিষ্কার সত্ত্বেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি অনড় রয়েছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

