বরিশালে ভাড়া ভবনে চলছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, নতুন ভর্তি স্থগিত

0
139
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বরিশালে ভাড়া ভবনে চলছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম / ছবি - এই বাংলা

বরিশাল প্রতিনিধি :


বরিশালে সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ভাড়া ভবনে দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে শিক্ষার মান ও সময়সূচি ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরের জানুয়ারি সেমিস্টার থেকে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বরিশাল বিভাগে বর্তমানে তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালে গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ২০১৭ সালে গ্লোবাল ভিলেজ ইউনিভার্সিটি এবং ২০১৮ সালে ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানই নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর হতে পারেনি; সবগুলোই ভাড়া ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, কর্তৃপক্ষ বারবার স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কোর্স সম্পন্ন হতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। অনেক ক্ষেত্রে তিন বছরের কোর্স শেষ করতে চার বছর পর্যন্ত সময় গড়াচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক ও মানসিক চাপ তৈরি করছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

প্রতিষ্ঠার সাত বছর পার হলেও বরিশালের কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে না পারায় ইউজিসি চলতি জানুয়ারি সেমিস্টার থেকে গ্লোবাল ইউনিভার্সিটিতে নতুন ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিষয়ে বরিশাল ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল বাকী জানান, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম হওয়ার পর অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। বর্ষা মৌসুমে নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও টানা বৃষ্টির কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বরিশাল উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক এবায়েদুল হক চান বলেন, বরিশালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন আইন ও নীতিমালার মধ্যে থেকে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে সরকারের কার্যকর ভূমিকা জরুরি।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছে, অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাত বছরের মধ্যে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন করতে না পারলে ইউজিসির সুপারিশে সময় বাড়ানো যেতে পারে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান এই সুযোগের অপব্যবহার করছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here