নাটোর প্রতিনিধি :
নাটোর সদর উপজেলার ভাতুরিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী গাঁওয়ালী শিন্নি উৎসব। সোমবার (ভোর থেকে) শুরু হওয়া এই উৎসবে গ্রামের ২৬টি সমাজের প্রায় ৬০০ পরিবার অংশগ্রহণ করে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিটি সমাজ থেকে ২৫ থেকে ৫০টি পরিবার শিন্নি উৎসবে যুক্ত হয়। প্রতিটি পরিবার ন্যূনতম দুটি করে শিন্নির ভাগ নেয়। চাঁদা ও চাল মিলিয়ে প্রতি ভাগের জন্য গড়ে প্রায় ২০০ টাকা করে প্রদান করা হয়। উৎসব উপলক্ষে প্রতিটি সমাজে একটি করে মোট ২৬টি খাসি কেনা হয়, যার দাম ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
ভোর থেকেই খাসি জবাই ও রান্নার প্রস্তুতি শুরু হয়। খাসির মাংস দিয়ে ঝাল শিন্নি রান্না করা হয় এবং দুপুর থেকে গ্রামবাসীর মধ্যে শিন্নি বিতরণ করা হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ভাতুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইমতিয়াজ জানান, এই শিন্নি উৎসবের পেছনে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। প্রায় ১৫০ বছর আগে গ্রামে ভয়াবহ কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তখন আতব্দি ফকির নামে এক আলেম গ্রামবাসীদের শিন্নি করে দোয়ার আয়োজনের পরামর্শ দেন। সেই আয়োজনের পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হয় এবং কলেরার প্রকোপ কমে আসে। এরপর থেকেই বংশপরম্পরায় এই শিন্নি উৎসব পালন হয়ে আসছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলেমের নির্দেশনা অনুযায়ী বছরে দুইবার—একবার ঝাল শিন্নি ও আরেকবার মিষ্টি শিন্নির আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় গৃহবধূ শিখা খাতুন বলেন, শিন্নি উৎসব তাদের কাছে ঈদের চেয়েও বেশি আনন্দের। কয়েকদিন আগেই আত্মীয়-স্বজনরা বাড়িতে আসতে শুরু করেন। পুরো গ্রামজুড়ে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রামপ্রধান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য নাদিম উদ্দীন জানান, শিন্নি উৎসবকে কেন্দ্র করে জামাই, মেয়ে, নাতি-নাতনীসহ আত্মীয়রা বাড়িতে সমবেত হন। এখন পাশের গ্রামগুলোতেও এই গাঁওয়ালী শিন্নির আয়োজন দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই উৎসব কেবল একটি ধর্মীয় বা সামাজিক আয়োজন নয়; এটি মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলে এবং বিভেদ ভুলিয়ে দেয়। ভবিষ্যতে এমন উৎসবের সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

