বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝালকাঠিতে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের দাপট, হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজনন

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :

সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও ঝালকাঠি জেলার প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন খাল, বিল ও জলাশয়ে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে চায়না দুয়ারী জাল। এ জাল দিয়ে মাছ শিকারের কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন জালের দোকানে গোপনে এসব জাল বিক্রিরও অভিযোগ উঠেছে।

জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও নিষিদ্ধ এ জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল তালুকদার বলেন, বর্তমানে অনেকেই চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করে খাল-বিল এমনকি নদীতেও মাছ শিকার করছেন। তার ভাষ্য, আগে কারেন্ট জাল দেশীয় মাছের বংশ ধ্বংস করেছে, এখন একইভাবে চায়না দুয়ারী জাল মাছের পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণী ধ্বংস করছে। একবার পানিতে ফেলার পর মাসের পর মাস জালটি রেখে দেওয়ায় অসংখ্য মাছের পোনা ও জলজ প্রাণী এতে আটকা পড়ে মারা যায়।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলোতে এখন দেশীয় মাছের উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। অনেক প্রজাতির মাছ ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়েছে, আর যেগুলো রয়েছে সেগুলোও বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। তিনি বলেন, দেশীয় মাছের সংকট তৈরি হওয়ায় বাজারে হাইব্রিড মাছের আধিপত্য বেড়েছে। তাই উৎপাদন পর্যায় থেকেই চায়না দুয়ারী জালের ওপর কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৎস্যজীবী জানান, চায়না দুয়ারী জাল সহজে নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘদিন পানিতে ফেলে রাখা যায়। এছাড়া দাম কম হওয়ায় এবং সহজলভ্য হওয়ায় অনেক জেলে এই জাল ব্যবহার করেন।

ঝালকাঠি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, “দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে চায়না দুয়ারী জালসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে সারা বছরই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় খুব শিগগিরই উপজেলাব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “চায়না দুয়ারী জাল সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। এ জাল ব্যবহার বন্ধে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিসের সমন্বয়ে ব্যবহারকারী ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়