শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ন

ঝালকাঠিতে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের দাপট, হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজনন

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :

সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও ঝালকাঠি জেলার প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন খাল, বিল ও জলাশয়ে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে চায়না দুয়ারী জাল। এ জাল দিয়ে মাছ শিকারের কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন জালের দোকানে গোপনে এসব জাল বিক্রিরও অভিযোগ উঠেছে।

জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও নিষিদ্ধ এ জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল তালুকদার বলেন, বর্তমানে অনেকেই চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করে খাল-বিল এমনকি নদীতেও মাছ শিকার করছেন। তার ভাষ্য, আগে কারেন্ট জাল দেশীয় মাছের বংশ ধ্বংস করেছে, এখন একইভাবে চায়না দুয়ারী জাল মাছের পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণী ধ্বংস করছে। একবার পানিতে ফেলার পর মাসের পর মাস জালটি রেখে দেওয়ায় অসংখ্য মাছের পোনা ও জলজ প্রাণী এতে আটকা পড়ে মারা যায়।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলোতে এখন দেশীয় মাছের উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। অনেক প্রজাতির মাছ ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়েছে, আর যেগুলো রয়েছে সেগুলোও বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। তিনি বলেন, দেশীয় মাছের সংকট তৈরি হওয়ায় বাজারে হাইব্রিড মাছের আধিপত্য বেড়েছে। তাই উৎপাদন পর্যায় থেকেই চায়না দুয়ারী জালের ওপর কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৎস্যজীবী জানান, চায়না দুয়ারী জাল সহজে নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘদিন পানিতে ফেলে রাখা যায়। এছাড়া দাম কম হওয়ায় এবং সহজলভ্য হওয়ায় অনেক জেলে এই জাল ব্যবহার করেন।

ঝালকাঠি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, “দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে চায়না দুয়ারী জালসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে সারা বছরই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় খুব শিগগিরই উপজেলাব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “চায়না দুয়ারী জাল সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। এ জাল ব্যবহার বন্ধে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিসের সমন্বয়ে ব্যবহারকারী ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর