নাব্যতা সংকটে কুড়িগ্রামের নদ-নদী প্রায় শুকনো, বিপর্যস্ত জীববৈচিত্র্য ও নদীনির্ভর জীবন

0
155
কুড়িগ্রামের ১৬ নদ-নদী নাব্যতা সংকটে, অস্তিত্ব রক্ষায় নেই ব্যবস্থা / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :


নাব্যতা সংকটের কারণে কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ ছোট-বড় প্রায় ১৬টি নদ-নদী প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। একসময় যেসব নদী ছিল এই অঞ্চলের জীবন ও জীবিকার প্রধান ভরসা, আজ সেগুলো বিস্তীর্ণ বালুচর ও ফাটল ধরা নদীবুকে রূপ নিয়েছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে নদীনির্ভর মানুষ, হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধরলা নদীর বিস্তীর্ণ অংশ এখন আর নদীর মতো নেই। শুকিয়ে যাওয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে কৃষকরা ধান, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজির চাষ করছেন। তবে এই চাষাবাদে রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি। কারণ বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ নদীর পানি বাড়লে এসব ফসল যেকোনো সময় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে তিস্তা ও দুধকুমারসহ অন্যান্য নদীতেও।

নদীতে পানি না থাকায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে নৌযান চলাচল। একসময় যে নদীপথ ছিল যোগাযোগ ও পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম, সেখানে এখন নৌকা ভাসানোর মতো পানিও নেই। এতে মাঝি, জেলে, নৌকার মালিকসহ নদীঘেঁষা অসংখ্য মানুষ জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

নদী শুকিয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে জীববৈচিত্র্যের ওপরও। মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় জলজ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

পরিবেশবাদী সংগঠনের কর্মী সুজন মোহন্ত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীগুলো খনন না হওয়ায় তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে অল্প পানির চাপেই নদীগুলো উপচে পড়ে বা দিক পরিবর্তন করে। অনেক নদী কার্যত মৃত অবস্থায় রয়েছে। পরিকল্পিত ও নিয়মিত খননের মাধ্যমেই এসব নদীকে বাঁচানো সম্ভব।

ধরলা নদীর পাড়ের বাসিন্দা মো. আবু সাঈদ বলেন, একসময় এই নদী ছিল পানিতে ভরপুর ও সৌন্দর্যে অনন্য। এখন তা মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। নদীনির্ভর মানুষগুলো জীবিকা হারিয়ে দিশেহারা। নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

স্থানীয় নৌকার মাঝি ভানু চন্দ্র বলেন, নদীতে পানি না থাকায় নৌকা চালানো যায় না। আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য কাজ না জানায় পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মির্জা মো. নাসির উদ্দীন বলেন, নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ধুলিকণার পরিমাণ বেড়ে বায়ুদূষণ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে নাব্যতা সংকট ও পানিশূন্যতার ফলে জলজ ইকোসিস্টেম ধ্বংসের মুখে পড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here